আক্তারুজ্জামান মৃধা, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর পানি দৌলতদিয়া প্রান্তে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা। ফলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৩০ আগস্ট সকাল থেকে ভাঙনে দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন ছিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদ অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনটি বাড়ীর ভিটেমাটি ও ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আশপাশের ঘরবাড়ি। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ১,২,৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটসহ সহস্রাধিক পরিবার। এদিকে লঞ্চ ও ফেরিঘাটের ভাঙন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে ৪ নম্বর ফেরিঘাটসংলগ্ন ছিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে মসজিদের সঙ্গে থাকা ইমামের পাঁকা ঘরটিসহ পাশের হান্নান কাজী, ছিদ্দিক কাজী ও মান্নান কাজীর ভিটেমাটি নদীতে চলে গেছে। এ সময় আতঙ্কে বাড়িঘর ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছে আরো ২০/২৫টি পরিবার।
এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ হোসেন বলেন, সোমবার সকালে ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আকস্মিক ভাঙনে মুহূর্তেই বিলীন হয় ছিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদসহ তিনটি বাড়ির ভিটেমাটি ও ৩০ মিটার এলাকা। আতঙ্কে সরিয়ে নিচ্ছে আশপাশের ঘরবাড়ি। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ১,২,৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটসহ সহস্রাধিক পরিবার। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনের বিষয়ে জানানো হয়েছে। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন বলেন, ভাঙ্গনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকবে। ভাঙন রোধ করতে না পারলে এখানকার ১ থেকে ৬ নম্বর ফেরিঘাট, ঘাটের পাকাসড়ক, বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মসজিদসহ কিছু ভিটেবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ব্যপারে বিআইডব্লিউটিএর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।