স্পোর্টস রিপোর্টার
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শেষ থেকেই যেন নিউজিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা করলেন সাকিব আল হাসান। প্রথমে বল হাতে ১০ রানে দুই উইকেট নেওয়ার পর, ব্যাটিংয়ে খেলেছেন ২৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ১১ বারের দেখায় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয় পেল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের এই জয় পাঁচ ম্যাচ সিরিজের বাকি চার ম্যাচের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন সাকিব।
ম্যাচ সেরার পুরষ্কার নিতে এসে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে ভালো লাগছে, যেহেতু এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো জিতিনি আমরা। এই জয় বাকি ম্যাচগুলোর জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিবে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জুড়েই আমরা খুব ভালো বোলিং করেছি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তা বজায় রাখছি।’
সাকিবের মুখে বোলিংয়ের জন্য যেমন ছিল প্রশংসার ফুলঝুড়ি, তেমনি ব্যাটিং নিয়ে ছিল অসন্তুষ্টি। কিউইদের বেধে দেওয়া ৬১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৭ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তখন খুব ভালো করেই চোখরাঙানি দিচ্ছিল বিপদ। কিন্তু মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে তা সামাল দেন সাকিব। কন্ডিশন সহজ না হলেও সাকিব জানিয়ে রাখলেন ব্যাটিংয়ে ভালো করাটা জরুরি।
সাকিব বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং এখনো পর্যন্ত আশানুরূপ হয়নি তবে এই কন্ডিশনে ব্যাটিং করা সহজ কাজ নয়। তাই ভালো সংগ্রহ দাঁড় করাতে হলে আমাদের খুবই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
বোলারদের নিয়ে প্রশংসার কমতি নেই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেরও। সাকিব ছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ৩টি, নাসুম আহমেদ ২টি, সাইফউদ্দিন ২টি ও মেহেদী হাসান নেন ১টি। তাদের ভালো বোলিং করার পেছনে কারণ হিসেবে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমি মনে করি আসল জিনিস হলো বোলাররা ক্ষুধার্ত ছিল এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে গেছে; তারা খুব বেশি কিছু করার চেষ্টা করেনি এবং কন্ডিশনের ব্যবহার করে খুব ভালো বোলিং করেছে।’
মিরপুরের স্লো ও স্পিন উইকেটে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার নাজেহাল অবস্থা খুব ভালোভাবেই দেখেছিল নিউজিল্যান্ড। সেজন্য দেশ থেকে প্রস্তুতিও নিয়ে আসে সেরকমভাবে। কিন্তু প্রথম ম্যাচে এসে তার ছিটেফোটাও দেখা গেল না। তাই দ্বিতীয় বার পড়তে হয় নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৬০ রানের লজ্জায় এবং দুই বারই তা হয়েছে মিরপুরের উইকেটে।
লজ্জা ভুলে দ্রুতই এই উইকেটে রান করার পথ খুঁজে বের করতে চান কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তিনি বলেন, ‘আশা করি আজ যা হয়েছে তা থেকে শিক্ষা নিব। এখানে ভালো স্কোর কত, সে ব্যাপারে আমাদের কাজ করতে হবে এবং সেই স্কোর করার পথ খুঁজতে হবে। ছেলেরা আজকের ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শিখবে। এই কন্ডিশনে খেলা খুব কঠিন এবং আশা করি, আমরা পরবর্তীতে ভালো করতে পারব।’
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের
সফল অধিনায়ক
জয় অধিনায়ক
১১ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
১০ মাশরাফি বিন মুর্তজা
৮ মুশফিকুর রহিম
৭ সাকিব আল হাসান
টি টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের
সর্বনিম্ন সংগ্রহ
রান প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
৬০ বাংলাদেশ ঢাকা ২০২১
৬০ শ্রীলঙ্কা ঢাকা ২০১৪
৮০ পাকিস্তান ক্রাইস্টচার্চ ২০১০
৮১ শ্রীলঙ্কা লডারহিল ২০১০
৮৬ দ.আফ্রিকা ডারবান ২০১২
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, প্রথম টি-টোয়েন্টি
টস : নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড ইনিংস রান বল ৪ ৬
ব্লান্ডেল ব নাসুম ২ ৬ ০ ০
রবীন্দ্র ক অ্যান্ড ব মেহেদী ০ ১ ০ ০
ইয়াং ব সাকিব ৫ ১১ ১ ০
গ্র্যান্ডহোম ক নাঈম ব নাসুম ১ ৪ ০ ০
ল্যাথাম ক নাসুম ব সাইফউদ্দিন ১৮ ২৫ ১ ০
নিকোলস ক মুশফিক ব সাইফউদ্দিন ১৮ ২৪ ১ ০
ম্যাকনকি ক মুশফিক ব সাকিব ০ ৩ ০ ০
ব্রেসওয়েল ক মেহেদী ব মুস্তাফিজ ৫ ৭ ০ ০
প্যাটেল ব মুস্তাফিজ ৩ ৬ ০ ০
টিকনার অপরাজিত ৩ ৯ ০ ০
ডাফি ক সাইফউদ্দিন ব মুস্তাফিজ ৩ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ২) ২
মোট (১৬.৫ ওভারে অলআউট) ৬০
উইকেট পতন : ১-১ (রবীন্দ্র, ০.৩ ওভার), ২-৭ (ইয়াং, ২.৫ ওভার), ৩-৮ (গ্র্যান্ডহোম, ৩.৩ ওভার), ৪-৯ (ব্লান্ডেল ৩.৬ ওভার), ৫-৪৩ (ল্যাথাম, ১০.৫ ওভার), ৬-৪৫ (ম্যাকনকি, ১১.৪ ওভার), ৭-৪৯ (নিকোলস, ১২.৬ ওভার), ৮-৫২ (প্যাটেল, ১৪.১ ওভার), ৯-৫৫ (ব্রেসওয়েল, ১৪.৫ ওভার), ১০-৬০ (ডাফি ১৬.৫ ওভার)।
বোলিং : মেহেদী ৪-০-১৫-১, নাসুম ২-০-৫-২, সাকিব ৪-০-১০-২, মুস্তাফিজ ২.৫-০-১৩-৩, মাহমুদউল্লাহ ২-০-৮-০, সাইফউদ্দিন ২-০-৭-২।
বাংলাদেশ ইনিংস
নাঈম ক নিকোলস ব ম্যাকনকি ১ ৬ ০ ০
লিটন স্টা ল্যাথাম ব প্যাটেল ১ ৩ ০ ০
সাকিব ক ল্যাথাম ব রবীন্দ্র ২৫ ৩৩ ২ ০
মুশফিক অপরাজিত ১৬ ২৬ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ১৪ ২২ ২ ০
অতিরিক্ত (ও ৫) ৫
মোট (১৫ ওভার, ৩ উইকেট) ৬২
উইকেট পতন : ১-১ (নাঈম, ১.১ ওভার), ২-৭ (লিটন, ২.৫ ওভার), ৩-৩৭ (সাকিব, ৯.৫ ওভার)
বোলিং : প্যাটেল ৪-০-৭-১, ম্যাকনকি ৪-০-১৯-১, রবীন্দ্র ৪-০-২১-১, ডাফি ১-০-৩-০, ব্রেসওয়েল ১-০-৯-০। ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : সাকিব আল হাসান।