শেষ সম্বল গরু চুরি যাওয়ায় দিশেহারা সিংগাইরের বিধবা

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

অসহায় বিধবা সামেলা বেগমের শেষ সম্বল ছিল একটি গরু। তাকে ঘিরেই ছিল তার ভবিষ্যতে জীবন গড়ার স্বপ্ন। গরুটিকে যত্ন করে গড়ে তুলে বিক্রির টাকা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধ করবেন। অভাবের সংসারে কিছুটা হলেও সচ্ছলতা ফিরে আসবে, সেটিই ছিল দিনরাতের পরিকল্পনা। কিছু দিন আগে  শেষ সম্বল সেই গরুটি চুরি হয়ে যাওয়ায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সামেলা জানান, চোর গোয়াল ঘরের তালার শিকল কেটে ঘরে প্রবেশ করে গরুটি চুরি করে নেয়। এরপর পাশেই একটি জমিতে নিয়ে জবাই করে পা, মাথা ও চামড়া রেখে মাংস নিয়ে যায়।

সামেলার স্বামী সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ জামশা গ্রামের দিনমজুর দেলোয়ার হোসেন চার বছর আগে মারা যান। রেখে যান নাবালিকা এক মেয়ে এবং এক ছেলে। সংসার চালানোর মতো কেউ নেই সামেলার। দুই সন্তান  নিয়ে মহাবিপদে পড়ে যান তিনি। বিধবা ভাতা থেকে যে  টাকা পান আর কিস্তি উঠিয়ে ২৯ হাজার টাকায় গরুটি ক্রয় করেন তিনি। সামেলা জানান, ‘রোজার মাসেও রোজা রেখে কষ্ট করে চক থেকে ঘাস কেটে এনেছি গরুর জন্য। বাজার থেকে বাকিতে কুড়া, ভুসি এনে খাইয়েছি। গরুটি বিক্রি করতে চাইলে দাম ওঠে ৬০ হাজার টাকা। বিক্রি করি নাই, ভেবেছিলাম যদি আরেকটু দাম পাই।  কিন্তু তার আগেই চুরি হয়ে যায় গরুটি। ধারদেনা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। এখন কে করবে আমাকে সাহায্য? কোথায় পাব টাকা? কীভাবে করব দেনার টাকা পরিশোধ? কলেজের একাদশ শ্রেণিতেপড়ুয়া মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাইতে পারি না। ছেলেকে ধার দেনা ও সুদে টাকা এনে ছোট পরিসরে দক্ষিণ জামশা বাজারে একটি দোকান করে দিয়েছি। করোনাকালে তাও কেনাবেচা কম। এমন অবস্থায় চোর যে আমাকে এভাবে  নিঃস্ব করে দেবে, তা ভাবতেও পারি নাই। ধারদেনা আর কষ্ট করে এখন দুটি ছাগল পালন করি। রাতে আতঙ্কে থাকি, কবে  ছাগল দুটোও চুরি হয়ে যায়।’