হু-হু করে স্ফীত হচ্ছে নদনদীর পানির স্তর। ধলেশ্বরী, পদ্মা ও যমুনার পানি ইতিমধ্যে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের পানিও। ফলে বন্যা পরিস্থিতি প্রতিদিনই অবনতি হচ্ছে। উজানে বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে প্লাবিত এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ১১টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগামী দুদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে, ফলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে। গত এক সপ্তাহে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও উজানে বৃষ্টির কারণে ফের নদনদীর বাড়তে শুরু করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে জানায়, বগুড়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় ১১ হাজার ১৫০টি পরিবারের ৪৫ হাজার ২০০ জন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় ১০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাইবান্ধায় কিছু কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি যেভাবে বাড়ছে তা ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভাগ্যকূল ও মাওয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে চলে যেতে পারে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে এ সময়। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকায় নদনদীর পানি কমছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। দেশের নদনদীগুলোর ১০৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৬টি পয়েন্টে এখন পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর এখন মোটামুটি সক্রিয়, বঙ্গোপসাগরে এর সক্রিয়তা মাঝারি ধরনের। এ অবস্থায় আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
যমুনার পানি গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সাঘাটায় ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, জামালপুরের বাহাদুরাবাদে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কাজীপুরে ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, সিরাজগঞ্জে ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়িতে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, পাবনার মথুরায় ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও মানিকগঞ্জের আরিচায় ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আত্রাইয়ের পানি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ধলেশ্বরীর পানি টাঙ্গাইলের এলাসিনে ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং পদ্মার পানি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার পানি ভাগ্যকূল ও মাওয়া পয়েন্টে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিপত্সীমা অতিক্রম করার আভাস রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জেলার সাড়ে ৫৪১ মে. টন চাল এবং ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। শাহজাদপুরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে কিছু নগদ অর্থ বিতরণ করা হলেও জেলার অন্য এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি। এদিকে পানিবন্দী মানুষ দীর্ঘদিন বেকার অবস্থায় থাকায় ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিরাজগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তর উপপরিচালক মো. আবু হানিফ জানায়, জেলার ৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এ ছাড়াও বন্যায় শাহজাদপুর, কাজীপুর, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী ও উপজেলার নতুন নতুন কৃষি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমএএম