‘আজ পর্যন্ত চুমু খাওয়ার অপরাধে কোনো প্রাণী গ্রেফতার হইছে?’

ঠা  ট্টা  ত্  কা  র

 

 

বালিকাকে উত্ত্যক্ত করায় গ্রেফতার হলো প্রতিবেশীর মোরগ (সূত্র :ইত্তেফাক অনলাইন, ০৫ ফেব্রুয়ারি)। এ নিয়ে গোটা দুনিয়া যখন তুলকালাম, ততক্ষণে হাজত ঘোরা হয়ে গেছে সেই মাস্তান মোরগের। এটা শুনে আমাদের ঠাট্টারু সত্যজিত্ বিশ্বাস কী বসে থাকতে পারেন? ছুটে গেছেন তিনি সেই চাঞ্চল্যকর মাস্তান মোরগের সাক্ষাত্কার নিতে

ঠাট্টা :মোরগ ভাই, কেমন আছেন?

অভিযুক্ত মোরগ :দেখতেই তো পাইতাছেন গ্রেফতার হইয়া বেকুব হইয়া গেছি, আবার জিগান কেমন আছি? 

ঠাট্টা :না, মানে আপনি এখন ফেমাস ব্যক্তিত্ব। তো প্লিজ, ঘটনাটা যদি সবার উদ্দেশে খুলে বলতেন?

অভিযুক্ত মোরগ :দুঃখের কথা কী আর বলব, বলেন? আমি পরিস্থিতির শিকার। 

ঠাট্টা :তার মানে?

অভিযুক্ত মোরগ :সামনে ভ্যালেন্টাইনস ডে। আমার মালিকরে এত অনুরোধ করলাম, একটা মুরগি আইনা দিল না।

ঠাট্টা :তাই বলে?

অভিযুক্ত মোরগ :আরে ভাই, আমার পুরা কথা তো আগে শুনবেন, নাকি?

ঠাট্টা :জি, আচ্ছা বলেন।  

অভিযুক্ত মোরগ :বাড়ির চারপাশে এত খুঁজছি, এত খুঁজছি, একটা মুরগিও খুঁইজা পাইলাম না। আমিও তো পুরুষ, তাই না? আমারও তো চুমু খাইতে ইচ্ছা করতে পারে। কী পারে না?   

ঠাট্টা :তা তো ঠিকই। তারপর? 

অভিযুক্ত মোরগ :তারপর আর কী? অনেক খোঁজাখুঁজি কইরাও যখন একটা মুরগি পাইলাম না, তখন বাচ্চাটার গালে চুমু খাইতে গেলাম। তারপরের করুণ ঘটনা তো এখন ইতিহাস।

ঠাট্টা :কিন্তু আপনি তো কোনো তরুণীকে টার্গেট করতে পারতেন। বাচ্চাটাকে কেন?

অভিযুক্ত মোরগ :আপনারও যেমন বুদ্ধি। আমি বড় কাউরে টার্গেট করি, আর সে আমারে রোস্ট বানাইয়া হাড়ে চুমা খাক। 

ঠাট্টা :তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু, যাই বলেন, আপনার কাজটা ঠিক হয়নি।

অভিযুক্ত মোরগ :আর আপনাদের কাজটা মনে হয়, খুব ঠিক হইছে?

ঠাট্টা :কোন কাজ?

অভিযুক্ত মোরগ :আজ পর্যন্ত চুমা খাওয়ার অপরাধে কোনো প্রাণী গ্রেফতার হইছে দেখাইতে পারবেন?

ঠাট্টা :না, তা না।

অভিযুক্ত মোরগ :চুমা খাওয়া যদি অপরাধ হয়, এ পৃথিবীতে অপরাধী না এমন একটা পুরুষ দেখান তো দেখি? আইজ আমি মোরগ বইলা...

ঠাট্টা :ভাই, আমি আপনার দুঃখটা বুঝতে পেরেছি।

অভিযুক্ত মোরগ :ঘোড়ার ডিম বুঝছেন। আপনে তো আইছেন আমারে নিয়া ঠাট্টা-মশকরা করতে। আমার দুঃখ শুধু একজন নারীই বুঝছিল।  

ঠাট্টা :কে সে? 

অভিযুক্ত মোরগ :আমার মালিকের বউ। সে সবার সামনে চিত্কার কইরা কইছিল, ‘আমাকে জেলে পুরে দিয়ে আমার  মোরগকে ছেড়ে দেওয়া হোক।’

ঠাট্টা :শুনেছি, আপনার চরিত্রের কারণে এখন থেকে আপনাকে নাকি গৃহবন্দি রাখা হবে?    

অভিযুক্ত মোরগ :চিন্তা করেন অবস্থাটা। সামনে ভ্যালেন্টাইনস ডে, এইটা কিছু হইল? এইডা তো ঘোর অবিচার। মোরগ বইলা কি আমার কোনো সাধ-আহ্লাদ নাই?  

ঠাট্টা :না, না, তা কেন হবে? 

অভিযুক্ত মোরগ :তাইলে আমি ডিম পাড়তে পারি না বইলা, আমার দাম নাই?

ঠাট্টা :আচ্ছা দেখি, আপনার জন্য কী করা যায়।

অভিযুক্ত মোরগ :কী করা যায়?

ঠাট্টা :আপাতত ইন্টারভিউটা শেষ করা যায়। বিদায়।