বইমেলার Some রঙ তামাশা!

  জামসেদুর রহমান সজীব

 

v যে মজনুকে দিনে তিনবার পিটিয়েও বই নিয়ে বসানো যায় না, সেই মজনুই আজ বইমেলার চারপাশ রাউন্ড রাউন্ড চক্কর মারছে। সঙ্গে উচ্চশিক্ষিত প্রেমিকা! স্টলে স্টলে যাচ্ছে আর ঝানু জ্ঞানী-গুণী পাবলিকের মতো বই নেড়েচেড়ে দেখছে। হঠাত্ প্রেমিকার আবদার, রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’ বইটি কিনে দিতে হবে। মজনু ব্যাপক একটা মুড নিয়ে বিক্রেতাকে বলল, ‘শুনুন জনাব, রবীন্দ্রদার “শেষের কবিতা” বইটি দিন তো।’

‘ঠিক কোন বইটা?’ বিক্রেতার অন্যমনস্ক জবাব।

‘আপনি বলদা নাকি! নামের শেষে কবিতা কথাটি বুঝেন নাই? রবীন্দ্রনাথের “শেষের কবিতা”নামক কবিতার বইটি চাইছি!’ মজনুর কথা শুনে বিক্রেতা হেসে উঠল। সঙ্গে আশপাশের সবাই। বাকি ছিল প্রেমিকা, সেও মজনুকে আচ্ছামতো ঝাড়ল। বেচারা মজনুর তো এটা জানা ছিল না যে, ‘শেষের কবিতা’ মূলত রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের নাম।

v জয়নাল পাগলা, দ্য গ্রেট গল্পকার। ব্যাপারটি খোলাসা করা যাক। এমন খ্যাত মার্কা নামের পরেও তাকে কেন গ্রেট গল্পকার বলা হয়েছে, সেটা ভাবছেন তো? আসলে লেখক নিজেই নামের পরে এই খেতাব জুড়ে দিয়েছেন। এই আশায় যে, পাবলিক একটু নড়েচড়ে বসে একবার হলেও যেন তার বইটি ছুঁয়ে দেখে। কিন্তু বিধিবাম! কেউই তার বই ছুঁয়ে দেখে না, এমনকি দেখেও অনেকে না দেখার ভান করে। কেন বা কী কারণে, তা পাবলিকই ভালো জানে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এরপরও প্রতিবছর জনাব জয়নাল পাগলার বই চুরি যায়! কত বিখ্যাত লেখকের বই পড়ে থাকে, কিন্তু চুরি হয় শেষে তারটাই। কে বা কোন মানব এই কর্মটি করে, তা অনেকে ভেবেও কুল পায় না। যাহোক, বই চুরি হওয়াতে প্রকাশক ও কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর লেখককে তার বইয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়। লেখকও প্রকাশ্যে ঝাল ঝাড়েন! তার বই চুরি যায়। এ ধরণীতে তার চরম ডিমান্ড। অতঃপর কর্তৃপক্ষ চোর পাকড়াও করার মিশনে নামল এবং চোরকে একদিন হাতেনাতে ধরেও ফেলল। পাঠকেরা কি বুঝতে পেরেছেন কে সেই চোর? হ্যাঁ, চোর বইয়ের লেখক নিজে। পরের কাহিনি নাহয় না শুনলেন। বড়ই স্যাড স্টোরি! 

v বাংলাদেশের এক গণ্যমান্য (জঘন্য) ওজনদার চিত্রনায়িকা তার জীবনী বই আকারে প্রকাশ করলেন। বইটিতে তিনি তার ওজনদার সব আবেগ, স্মৃতিকথা, দুঃখের ঘটনাসহ হাবিজাবি অনেককিছু লিখেছেন। এখানে সমাপ্তি হলে বোধহয় হতো, কিন্তু ঘটনা গড়াল আরও বহুদূর। লেখিকা বইটির প্রচারও করেছেন ব্যাপক। একদল মানুষ নিয়ে এমনভাবেও প্রচার করিয়েছেন যে, যখনই কেউ বইমেলাতে ঢুকছে সঙ্গে সঙ্গে একজন প্রচারক তার পা ধরে হাউমাউ করে কান্নাকাটি জুড়ে দিচ্ছে। বইটি খরিদ করার অনুরোধ করছে। তো এতকিছুর পর যখন সত্যি সত্যি তার বই বিক্রি হতে লাগল এবং বিক্রি তো বিক্রি, একেবারে বেস্ট সেলারে তার বইটি উঠে এলো, তখন পাঠক রোজ নানা চিঠি বইটির প্রকাশক ও লেখিকাকে পাঠাতে শুরু করল। আর প্রতিটি পত্রেই যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো, ‘আমরা পাঠকেরা আপনার বই এজন্যই কিনেছিলাম যে আপনার মোটাতাজাকরণ ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানতে পারব। কিন্তু সেসব বিষয় তো পেলামই না। এমনকি আপনি যখন নায়কদের কোলে উঠে দাপাতেন, তখন তাদের কী অবস্থা হতো তাও কিছু উল্লেখ করেননি। এটা ক্যামনে আপনার জীবনীমূলক বই হতে পারে, বলুন?’

 

v এক ভদ্র মহিলা তার টাউট স্বামীকে নিয়ে বইমেলায় ঢুকেছেন। এরপর আধ ঘণ্টার মধ্যে স্বামীকে তিনি হারিয়ে ফেললেন। যথারীতি তিনি মাইকে অ্যানাউন্সের মাধ্যমে স্বামীকে খুঁজে পেলেন। কিন্তু মিনিট বিশেকের মধ্যে আবার হারালেন। এবারও তিনি মাইকে অ্যানাউন্স করে স্বামীকে খুঁজে পেলেন। অতঃপর আবারও হারালেন। চতুর্থবারের মতো যখন তিনি মাইকে অ্যানাউন্স করতে গেলেন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা চরম বিরক্তি নিয়ে বললেন, ‘কেমন স্বামী আপনার বলুন তো! বার বার হারায় কিভাবে? কচি খোকা তো আর নয় সে। এতই যদি হারানোর প্রবলেম তাহলে স্বামীকে আঁচল দিয়ে বেঁধে রাখলেই হয়!’ মহিলা অত্যন্ত সরলভাবে উত্তর দিলেন, ‘তাই তো রাখি! কিন্তু প্রতিবারই কোনো সুন্দরী মেয়ে দেখলে আঁচল খুলে সেই মেয়ের পিছনে হাঁটা দেয়। আর বারবার তাকে আমি হারিয়ে ফেলি!’