সামাজিক সুরক্ষার জন্য সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা প্রয়োজন

বাংলাদেশে বার্ধক্যে দারিদ্রতা এবং সামাজিক দুঃখদুর্দশা এড়াতে একটি শক্তিশালী পেনশনব্যবস্থা প্রণয়ন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাজার বা বন্ডে বিনিয়োগের বিকল্পসহ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত পেনশনব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। গতকাল বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত বাংলাদেশে সার্বজনীন পেনশনব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই পরামর্শগুলো তুলে ধরা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সত্যজিত্ কর্মকার, অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রবিধান) মো. গোলাম মোস্তফা বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে অংশ নেন।

প্যানেল আলোচক হিসেবে সরকারের ইউনিভার্সাল পেনশন রিফর্ম ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্ট এবং কনসালটেন্ট ডা. কাবিম ভি ভাটনাগর এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, আহসান এইচ মনসুর ওয়েবিনারে অংশ নেন। আইসিএবি সভাপতি মাহমুদউল হাসান খসরু এফসিএ স্বাগত বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ব্যাপক পেনশন কভারেজ প্রদানের যৌক্তিকতার সঙ্গে ‘ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম প্রবর্তন’ ঘোষণা করেন। বর্তমানে, সরকারি চাকরি ব্যতীত জাতীয় স্কেলে বাংলাদেশে কোনো আনুষ্ঠানিক পেনশনব্যবস্থা নেই। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ যা মোট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মীর মাত্র ৫ শতাংশ। অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, সুশাসন এবং সব ক্ষেত্রে দক্ষ সেবা প্রদানের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার পেনশন বেতন ও প্রশাসনকে আধুনিকীকরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিএবি সভাপতি মাহমুদুল হাসান খুসরু এফসিএ বলেছেন, এই মহামারি চলাকালীন ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে এবং মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী তাদের চাকরি হারানোর কারণে দরিদ্র হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে বৈষম্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। একটি সর্বজনীন পেনশনব্যবস্থা আয়ের বণ্টনে এই বৈষম্য কমাতে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।