ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, আসামিদের গ্রেফতার ও চার্জশিট দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের দেওয়া পুরস্কারের ৫ হাজার টাকা নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাগর সিকদার। এ জন্য তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন এলাকাবাসীর।
জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের চাঁদ আলির ছেলে শাহীন আলমের গ্রামের বাজারে লেদ ও গ্রিলের দোকান ছিল। গত ৫ জুন রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাস্তার পাশের একটি কলাবাগানের ভেতর ফেলে যায়। পরের দিন সকালে গ্রামবাসী লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা চাঁদ আলি থানায় মামলা করলে তদন্তভার পড়ে এসআই সাগর সিকদারের ওপর।
সাগর সিকদার জানান, নিহত শাহিন আলম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারের অসহায়ত্ব দেখে ঐ পরিবারের প্রতি তার মমত্ম জন্মায়। কিন্তু মামলাটি ক্লুলেস হওয়ায় তিনি নানাভাবে তদন্ত করতে থাকেন। অবশেষে সোর্স মারফত জানতে পারেন, এক ব্যক্তি তরমুজ কিনে রক্তমাখা টাকা দিতে চাইলে বিক্রেতা রানা তা নেননি। এ ঘটনার সূত্র ধরে জানতে পারেন একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান বাবলু ঐ রক্তমাখা টাকা দিয়ে তরমুজ কিনতে চেয়েছিল। তিনি মিজানুর রহমানের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং তাকে গ্রেফতার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন শাহীন আলম খুনে তার সঙ্গী ছিল মোমিন উল্লাহর ছেলে জসিম উদ্দিন বাবু। ঠাকুরগাঁয়ে পালিয়ে থাকা জসিম উদ্দিন বাবুকে গ্রেফতার করে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এভাবেই খুনের রহস্যটি উন্মোচিত হয়। এ কৃতিত্বে পুলিশ সুপারের দেওয়া পুরস্কারের ৫ হাজার টাকা ও নিজ থেকে কিছু কাপড় কিনে শাহীন আলমের বাড়িতে যান এবং পরিবারের হাতে তুলে দেন। শাহীনের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করেন। দারোগার অনুদান পেয়ে খুশি নিহত শাহীন আলমের বাবা চাঁদ আলি বলেন, ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। তবে দারোগা সাগরের অবদান ভুলবার নয়। দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছেন। তিনি ছেলের খুনিদের ফাঁসির দাবি করেন।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সহকর্মী এসআই সাগর সিকদারের মানবতা পুলিশ বাহিনীকে মানুষের সেবায় আরো অনুপ্রাণিত করবে। অসহায় মানুষের প্রতি তার মমত্মবোধ দেখে তিনি মুগ্ধ।