কার্যালয়ে বসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করে ঘটনাস্থলে গিয়েই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এই আদালত পরিচালনা করতে হবে মর্মে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। বাল্যবিবাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনোর আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত আদেশে বলেছে, আইন প্রয়োগের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আরো সতর্ক হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে এদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।
প্রেমের সম্পর্ক থাকায় পারিবারিকভাবে ১ আগস্ট নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপাশা গ্রামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫ বছর) সঙ্গে মহেশ্বরখিলা গ্রামের একজনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিয়া সুলতানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে এক মাস করে সাজা দেন। এরপর তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনলে ঐ দুই শিশুকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের দেওয়া ব্যাখ্যার কপি আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিয়া সুলতানা ৮ আগস্ট তার লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন। তাতে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটবে না বলে অঙ্গীকার করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া এই ব্যাখ্যা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করলে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়।
আদেশে রাজিয়া সুলতানার নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদনটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার শুনানি করেন।