যমুনার পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপরে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্ধী হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি আরও ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিষয়টি শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

জানা গেছে, পানি বাড়ার ফলে প্রতিদিনই চরাঞ্চলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন অব্যাহত থাকায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষ, ভীতি কাজ করছে তাদের মাঝে। বিপাকে পড়েছেন জেলার গো-খাদ্য খামারিরা।

শুক্রবার  সকালে  সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপর দিকে কাজিপুরে মেঘাই ঘাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পানি পরিমাপক ওমর আলী।

সিরাজগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আবু হানিফ জানায়, জেলায় বন্যায় ৭ হাজার ৬২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রোপা আমন, বোনা আমন, সবজী, আখ ও বীজ তলা। এছাড়াও বন্যায় শাহজাদপুর, কাজীপুর, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ সদর, চৌহালী ও উপজেলার নতুন নতুন কৃষি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জেলার সাড়ে ৫২১ মেট্রিক টন চাউল এবং ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুরে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও চাউল বিতরণ করা হয়েছে বলে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা জানান।

ইত্তেফাক/এমআর