কুড়িগ্রামে বন্যা ও ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে ৩০ হাজার পরিবার

ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এতে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। উপজেলার দুইটিতে প্রায় এক লক্ষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। 

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের চরইটালুকান্দা, গেন্দার আলগা, চরগেন্দার আলগা, ঘুঘুমারী, চরঘুঘুমারী, পশ্চিম খেদাইমারী, খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া, পয়েস্ততী বাগুয়া, যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর, ধনারচর নতুনগ্রাম, ধনারচর চরের গ্রাম, দিগলাপাড়া ও রাজিবপুর উপজেলা কোদালকাটি ইউনিয়নের বিলপাড়া, মধ্যচরসাজাই, চরসাজাই, উত্তর কোদালকাটি, সংঙ্খরমাধবপুর, পাইকাটারি, রাজিবপুর ইউনিয়নের ধলাগাছা, মহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বেড়, কিটনটারী, নয়ারচর দু’টি উপজেলা ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে। 

রাজিবপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, আমাগো বাড়ি ঘর নদীতে ভাইঙ্গা গেছে, বন্যার মধ্যে এহন কোহানে যামু, আমাগো যাওয়ার কোনো জাগা নাই, সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই।

রাজিবপুর উপজেলার উত্তর চরসাজাই গ্রামের শিক্ষক মো. আমিনুর রহমান বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙ্গন একযোগে শুরু হয়েছে, বন্যা কবলিত মানুষ শুকনা খাবার কিনে খাবে নাকি নদী ভাঙ্গনে কবল থেকে বাড়ি ঘর সরিয়ে অন্য জাগায় নিবে।

রৌমারী ও রাজিবপুর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিএসডিকে এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, রৌমারী উপজেলার ১৫টি গ্রামের ১৮ হাজার পরিবার ও রাজিবপুর উপজেলার ১০টি গ্রামের ১২ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে।

রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, আমার ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সকল গ্রামে বন্যা ও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। 

চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কেএম এইচ সাইদুর রহমান দুলাল মাস্টার বলেন, চরশৌলমারী ইউনিয়নের উত্তরে চরইটালুকান্দা থেকে পাখিউড়া পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। একদিকে বন্যা অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, কোভিড-১৯, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রৌমারী উপজেলায় এক লক্ষ টাকা, ২৫ টন জিআর এর চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বন্যার পরিস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এমএএম