করোনা মহামারির কারণে ১৭ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে। তবে শুরুতেই সব শিক্ষার্থী স্কুল আসবে না। কবে কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে, সে বিষয়ে একটি গাইডলাইন চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করবে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এছাড়া আগের ঘোষণা অনুসারেই নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং আগামী বছরের পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিনই ক্লাস করবে। বাকি শ্রেণির ক্লাস শুরুতে এক দিন করে হবে। পরে অবস্থা বুঝে ধীরে ধীরে তা বাড়ানো হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রবিবার জানা যেতে পারে। ঐ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, কবে কোন শ্রেণির ক্লাস হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবাইকে অবহিত করা হবে।
গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে স্কুল-কলেজ খোলার তারিখ ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব। স্কুল-কলেজগুলো খোলার জন্য আমরা আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নিতে সরকার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। স্কুল-কলেজ খোলার পর প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন প্রতিবেদন পাঠাতে হবে শিক্ষা অধিদপ্তরে । শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেশির ভাগ শিক্ষকই টিকা নিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ১২ বছর বয়সি পর্যন্ত এই টিকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভায় উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় কি না, সে বিষয়ে করোনা-সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ চাওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে কারিগরি পরামর্শক কমিটির ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে।
কোভিড-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আরো কমবে। করোনার টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ঐ বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। গত ২৬ আগস্ট সর্বশেষ ঘোষণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরো এক দফা বাড়িয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৬ আগস্টের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে খুলতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে আমরা আবারো বসব। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত সেখানকার একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট নিয়ে থাকে। উপাচার্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সব শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়।’
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর এবং মধ্য নভেম্বরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের জন্য হল খুলে দেওয়া হবে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্কুলের সঙ্গেই খুলবে বলে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে।