করোনা ভাইরাস ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যু

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ১১ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ ১৯ জুন এর চেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল। সেদিন মোট ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মৃৃত্যুর সংখ্যার পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ১৬৭ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্ত রোগীর হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের দিন এই হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ ছিল। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হলো; তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৬ হাজার ৪৩২ জনের।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩ হাজার ৪৩৬ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল। আর মৃত্যু হয়েছিল ৮৮ জনের। সেই হিসেবে এক দিনে শনাক্ত রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই কমেছে। গত এক দিনে শুধু ঢাকা বিভাগেই ১ হাজার ৮৫৯ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে যা দিনের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। এক দিনে করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৭৯টি আর পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৮টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯০ লাখ ২১ হাজার ১০২টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৮টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০৪টি।  এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ৫২ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭০ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন আর নারী ৩৬ জন। এদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ১১৮ জন আর নারী ৯ হাজার ৩২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে রয়েছেন চার জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন আর ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন এক জন। আর এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রয়েছেন ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫ জন, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের চার জন করে, খুলনা বিভাগের ১২ জন, সিলেট বিভাগের আট জন আর রংপুর বিভাগের রয়েছে তিন জন। ৭০ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৫৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১০ জন আর বাড়িতে তিন জন। 

দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমিতদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ভ্যাকসিন নেননি। শুক্রবার পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারের কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বরদন জং রানা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল প্রমুখ।