পদে পদে প্রতারণার ফাঁদ, সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ

রাজধানীতে নিত্যনতুন কৌশলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সংঘবদ্ধ চক্রের প্রতারণার জালে বন্দি হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ। জমি লিজ, প্লট বিক্রি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, এমএলএল ব্যবসার আড়ালে প্রতারণা, পে-অর্ডার প্রতারণা, অনলাইন প্রতারণাসহ হরেক রকম প্রতারণা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ, আর্থিক জালিয়াতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করে দেওয়ার আশ্বাস, আবাসন ব্যবসা, লোভনীয় চাকরির অফারে বিদেশে লোক পাঠানো, সাইবার হ্যাকিং, ভুয়া জমি-ফ্ল্যাট দেখিয়ে প্রতারণা এবং সাইবার অপরাধই বেশি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে নানা কায়দায় প্রতারণার ফাঁদ পাতে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সাধারণত সহজসরল মানুষই তাদের লক্ষ্য। সুযোগ বুঝেই নানা ছলচাতুরি ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রতারণা করছে। এ ধরনের প্রতারক চক্রের সদস্যরা পুলিশ ও র্যাবের হাতে প্রায় দিনই গ্রেফতার হচ্ছে। গ্রেফতারের পর এদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীরা। দুই অথবা তিন মাস পর তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও প্রতারণার কাজ চালিয়ে যায়।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র্যাবের হাতে বহু প্রতারক চক্র গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি দেওয়ার নামে এবং অনলাইনে ব্যবসা করার নামে প্রতারণা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। এদেরকে র্যাব গ্রেফতার করছে।

জানা গেছে, রাজধানীর কাফরুল থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় জমির ভুয়া লিজপত্র দেখিয়ে এবং জমি দেওয়ার কথা বলে ২০/২৫ জন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০/১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এর মধ্যে কয়েক জন ভুক্তভোগী কাফরুল থানায় জিডি করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছানাউল্লাহ, সেলিম ও আলামিন ঠাকুর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের কোনো প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি দেয়নি। টাকা নেওয়ার পর তাদের ভুয়া কাগজপত্র দিয়েছে।

গত ১ আগস্ট মিরপুর থেকে ইশরাত রফিক ঈশিতা ও তার সহযোগী শহিদুল ইসলাম দিদারকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতারকৃত ইশরাত ‘ইয়াং ওয়ার্ল্ড লিডারস ফর হিউম্যানিটি’  নামে একটি অনিবন্ধনকৃত ও অননুমোদিত সংগঠন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন বলে প্রচার করতেন। মূলত প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত্ ও খ্যাতি অর্জনের জন্যই এসব করেছিলেন তিনি।

অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে গত ৩১ মার্চ র্যাব গুলশান, উত্তরা ও রামপুরা এলাকা থেকে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে ঐ সব ভিডিও আপলোড করে। পরে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কয়েক দফায় টাকাও আদায় করে।