এতো এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভূতি। তবে আমি খুব ভাল মা। খুব কেয়ারিং। এটা আমার আশেপাশের সকলেই বলে। অবশ্যই পৃথিবীর সব মা’ই সেরা।
তারিফ সৈয়দ
পিয়া জান্নাতুল। এদেশের র্যাম্প মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতির জায়গায় নিয়ে গেছেন তিনি। বিশ্বমানের বেশ ক’টি ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেছেন। যার সাফল্যের রেকর্ড বাংলাদেশে আর কারো নেই। হয়েছেন আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এর কাভার মডেল।
কেমন আছেন পিয়া এখন? জানতে চাইলে পিয়া বললেন, ‘ভাল আছি। সবাই এই করোনাকালে যেমন হা-হুতাশ করেছেন। আমার ভেতরে হয়ত সেই হতাশাটা কম ছিল। কারণ আমি সবসময়ই পরিস্থিতিকে কাজে লাগে চেয়েছি। কোনো কিছু প্রাপ্তি নিয়ে অতি অস্থিরতা ছিল না আমার, এখনও নেই। তাই সেই হতাশাটা কম।’
পিয়া’র এখনকার ব্যস্ততা মূলত নিজের ব্যবসা দেখাশোনা আর আইন বিষয়ক পড়াশোনা ও প্র্যাকটিস। এর ভেতরে পিয়ার ঘর আলো করে এসেছে সন্তান আরিস হাসান। কেমন কাটছে এই ‘মা’ জীবন?
পিয়া জানান, ‘এতো এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভূতি। তবে আমি খুব ভাল মা। খুব কেয়ারিং। এটা আমার আশেপাশের সকলেই বলে। অবশ্যই পৃথিবীর সব মা’ই সেরা।’
শোবিজে নিজের কাজের অবস্থান প্রসঙ্গে পিয়া বলেন, ‘আমি তো বরাবরই নিজের কাজের ব্যাপারে আমার ইচ্ছেটাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। সেদিক দিয়ে অবশ্যই বলবো, চাইলে তো প্রতিদিনই কোনো না কোনো শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেই পারি। কিন্তু ইচ্ছে হয়না। এর ভেতরে ‘হিমালায়ন’ ব্র্যান্ডের একটি টিভিসির কাজ শেষ করলাম। কাজটা খুব দারুণ হয়েছে। এছাড়া নিজের একটি ছবি ‘শেষ প্রহর’। সেটি হয়তো রিলিজ হবে খুব জলদি। তারও অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে আইন পেশার ব্যস্ততাকেও খুব উপভোগ করছেন তিনি। পিয়া বলেন, ‘এই পেশাতে তো সারাজীবনই পড়াশোনা করতে হয়। আমার কাছে বিষয়টা দারুণ লাগে। মাঝে মাঝে ক্লান্তও হই। কিন্তু দেশ, সমাজ আর মানুষ চিনি। নিজের ভেতরের নানান দর্শন তৈরি হয়। আইন পেশাটাকে আমি আমার অন্যরকম ভাললাগার কাতারে রাখি। আসলে সারাজীবনই নিজের ভাললাগেনি অথচ সেই কাজটি করেছি, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি আমার জীবনে। তাই আমি এব্যাপারে বরাবরই নিজের ইচ্ছের বাদশা।’
আগেকার সময়ের সেই মডেলিং ক্যারিয়ারকে মিস করেন কীনা—জানতে চাইলে পিয়া বলেন, ‘মিস করিনা কোনকিছুই। তবে স্মৃতিগুলো দারুণ এক ভাললাগা দেয় আমাকে। সবগুলো স্বত্ত্বাই তো আমি। তাই কোনোকিছুকে আলাদা করতে পারি না। তবে এখনকার অনেক মেয়েরাই আসে। পরামর্শ চাই। ভাল লাগে।’
নতুনদের কী পরামর্শ দেন? পিয়ার উত্তর ‘সবসময় নিজে যা ভাবি। সেটাই ওদেরকে বলার চেষ্টা করি। যে, জীবনে সফলতা কখনওই শর্টকাটে আসেনা। তাই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়াটাই সফলতার মূলমন্ত্র। এখন অনেকে ঐটা ভুল পথ জেনেও হাঁটতে চায়। এই লোভটা সংবরণ করলেই জীবনে স্বস্তি সমৃদ্ধি দুটোই পাওয়া যায়।’
শোবিজের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে পিয়া বলেন, ‘ভাল কিছু সময়ের অপেক্ষায় আমি নিজেও। সিনেমা হল বন্ধ। আউটডোর শো বন্ধ। সকল ইভেন্ট বন্ধ। আসলে এইসব নাজুক পরিস্থিতিতে সবসময়ই সবার ভেতরে হতাশা কাজ করবেই। এই ভয়াবহকাল কেটে উঠুক। এটা সকলের মতো আমারও একমাত্র চাওয়া। তবে আমি আশাবাদী। নিশ্চয়ই আমাদের ইন্ডাষ্ট্রির দারুণ এক সুসময় আগামীতে আসবে।’