মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেললাইন, স্লিপারসহ রেলের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সম্পদ অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেদখল, চুরি হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে সৈয়দপুর গড়ে ওঠে রেলওয়ে কারখানা। এ কারখানায় সাতটি গেট দিয়ে রেলের বগি (ওয়াগন) মেরামত কাজে আনা-নেওয়ার জন্য রেললাইন স্থাপন করা হয়। এ গেটগুলোর মধ্যে তিনটি গেট দিয়ে বগি আনা-নেওয়া বন্ধ রয়েছে। পরিত্যক্ত এই লাইনগুলো হলো—স্টেশন থেকে দক্ষিণে রেলওয়ে মাঠের পাশে, উত্তরে রেলওয়ে কারখানা পাশ দিয়ে গোলাহাট কবরস্থান পর্যন্ত, ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুত্ (ডিজেল) এর কার্যালয়ের পেছন থেকে রেলওয়ে কারখানা পর্যন্ত। লাইনগুলোর মোট দৈর্ঘ প্রায় ১ হাজার ৫২৪ মিটার। দীর্ঘদিন থেকে এসব রেললাইন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট এবং চুরি হয়ে গেছে লোহা ও কাঠের প্রায় ২ হাজার ৫০টি স্লিপার।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অযত্নে পড়ে থাকায় রেললাইনগুলোতে মরিচা পড়েছে। জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে রেললাইন। দুই রেললাইনের মধ্যে বেড়ে উঠছে গাছ। চোখে পড়েনি একটি স্লিপারও। কিছু এলাকায় রেললাইনের বেশ কয়েকটি বড় পাতও নেই। আর কিছুদিন থাকলে হয়তো সবগুলোই উধাও হয়ে যাবে।
ইসলামবাগ বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন নামের এক শিক্ষক বলেন, রেলওয়ে গেট বাজার যাওয়া আসার পথে দেখি রেললাইনের স্লিপার ও পিন যে যার মতো করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাধা দেওয়ার কেউ নেই। সৈয়দপুর রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, পরিত্যক্ত রেললাইন ব্যবহার উপযোগী করলে কিংবা সেগুলো নিলামে বিক্রি করলে রেলের বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) সুলতান মৃধা জানান, জনবল কম থাকায় আমরা অনেকটা অসহায়। তাই রেলের বিপুল পরিমাণ এ সম্পদ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের পক্ষে বেশ কঠিন। ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত রেললাইনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তা জানানো হবে।