কোভিড-১৯-এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ২০০ কোটি টাকার ঋণের ৩০ শতাংশের বেশি নারী-উদ্যোক্তাদের দিতে চায় এসএমই ফাউন্ডেশন। বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে ঋণ নীতিমালায় সংশোধনী এনেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ঋণ আবেদনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ পাওয়া বা না পাওয়ার কারণ জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি নিয়ে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন এবং নারী-উদ্যোক্তা সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান। সভায় ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদের সদস্য মির্জা নুরুল গণি শোভন, প্রাক্তন সদস্য রাশেদুল করীম মুন্নাসহ বিভিন্ন ট্রেডবডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ঋণ বিতরণ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকায় কমিয়ে আনা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে ২ সেপ্টেম্বর এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে পরিচালক পর্ষদের ১২৩তম সভায় ঋণ বিতরণ নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে। তারই আলোকে সারা দেশের এসএমই ক্লাস্টার উদ্যোক্তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ শতাংশ বিতরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের ৭০ শতাংশ এবং ট্রেডিং খাতের উদ্যোক্তাদের ৩০ শতাংশ ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। তবে নারী-উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেডিং খাতে এ হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া আবেদনের পর দ্রুততম সময়ে উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চেকলিস্ট ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা হবে এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ পাওয়া বা না পাওয়ার কারণ জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নীতিমালায় যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো জানান, এবার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ কয়েকটি নতুন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। প্রথম দফার ১০০ কোটি টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে, তা দূর করে দ্রুততম সময়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে এবারের ২০০ কোটি টাকা বিতরণে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কোাভিড-১৯ অতিমারি পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় গত অর্থবছর ১০০ কোটি টাকা বিতরণের পর চলতি অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে আরো ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণপ্রাপ্ত হননি তারা দ্বিতীয় দফার ঋণে অগ্রাধিকার পবে। তাছাড়া অগ্রাধিকারভুক্ত এসএমই সাব-সেক্টর এবং ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা, নারী-উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা অর্থাত্ যারা এখনো ব্যাংক ঋণ পাননি তাদের দ্বিতীয় দফার ঋণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পশ্চাত্পদ ও উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তাগণ এই ঋণে অগ্রাধিকার পাবে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ঋণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচ জন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে।