তালেবানের বন্দিমুক্তি প্রতিশোধের মুখে আফগান নারী বিচারকরা

জীবনের ভয়ে ভীত দেশটির ২৫০

নারী বিচারকের কেউ কেউ এরই

মধ্যে পালাতে পারলেও বেশির

ভাগই পারেননি

রয়টার্স

আফগানিস্তানের নারী বিচারকরা এককালে যাদের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন, কাবুল পতনের পর বিজয়ী তালেবানের হাতে মুক্ত হওয়ার পর এখন প্রতিশোধের নেশায় ঘুরছেন তারা। জীবনের ভয়ে ভীত দেশটির ২৫০ নারী বিচারকের কেউ কেউ এরই মধ্যে পালাতে পারলেও বেশির ভাগই পারেননি। তারা এখনো দেশ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে তাদের সহায়তায় দিনরাত ব্যস্ত বিচারক ও অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।

তালেবানের পক্ষ থেকে নারী অধিকার সংরক্ষিত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও কীভাবে তা হবে তার বিস্তারিত এখনো জানায়নি। বিচার বিভাগে কর্মরত নারীরা এরমধ্যেই তাদের আক্রমণের বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের দুই জন নারী বিচারককে জানুয়ারিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইউরোপে পালানো এক উচ্চ পর্যায়ের একজন বিচারক বলেন, ‘এখন তালেবান দেশ জুড়ে বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে, যেটা বাস্তবে নারী বিচারকদের জীবনকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’ অজ্ঞাতবাস থেকে তিনি বলেন, ‘কাবুলে আমার বাসায় তালেবান সদস্যরা এসে জিজ্ঞেস করেছিল, ঐ নারী বিচারক কোথায়? এদেরকেই আমি কারাদণ্ড দিয়েছিলাম।’ দেশে সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে এই আফগান বিচারক বলেন, ‘তাদের কাছে যে খবর পাই, তা ভয় জাগানো ও আতঙ্কজনক। তারা আমাকে বলেছে, উদ্ধার করা না হলে তাদের জীবন এখন বড় বিপদের মুখে।’

আফগান মানবাধিকারকর্মী হুরিয়া মোসাদিক বলেন, এসব বিচারকরা ছাড়াও প্রায় হাজারখানেক নারী অধিকারকর্মীর তালেবানের আক্রোশের মুখে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুক্ত হওয়া বন্দিরা নারী বিচারক, আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, তারা বলছে, ‘তোমার খোঁজে আসছি আমরা’।

ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড বলেন, গত সপ্তাহে লন্ডন ৯ নারী বিচারককে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা আরো মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই বিচারকদের অনেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে ছিলেন এবং তালেবানের উত্থানে কি পরিণতির মুখোমুখি তাদের হতে হবে, তা নিয়ে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।’

মানবাধিকার ও আইনকর্মীরা বলছেন, কাবুল পতনের পর বিশৃঙ্খলার মধ্যে নারী বিচারক ও অধিকারকর্মীদের বের করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে পশ্চিমা দেশগুলো প্রাধান্য দেয়নি। বেলফাস্টভিত্তিক মানবাধিকার আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবীদের সমিতি অ্যাটলাস উইমেন রেটওয়ার্কের সদস্য সারা কে বলেন, ‘নিজেদের নাগরিক ছাড়া বাকিদের বের করে নেওয়ার বিষয়ে সরকারগুলোর তেমন আগ্রহ নেই।’