‘তারা শিশুটিকে হত্যা করে ব্যাগে ভরে ডোবায় ডুবিয়ে রাখে’

তিন কিশোর গ্রেফতার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সাত বছর বয়সি একটি শিশুকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে। রাজবাড়ী থেকে ঐ তিন কিশোরকে গ্রেফতারের পর গতকাল শনিবার তাদের সামনে আনা হয়। আল আমিন নামে শিশুটিকে গত ২৮ আগস্ট সকালে সিংগাইরের বড়বাকা এলাকায় বাড়ি থেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।

পিবিআই মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত সুপার কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাসার সামনে বাইসাইকেল চালানোর সময় ঐ তিন কিশোর শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। তারা শিশুটিকে একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে গলা টিপে হত্যা করে। তারপর প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডোবায় ডুবিয়ে রাখে লাশ।

ঐ তিন কিশোর আল আমিনকে হত্যার আগে তার জামা-প্যান্ট খুলে রেখে দেয় মুক্তিপণ চাওয়ার সময় দেখানোর জন্য। হত্যার একদিন পর ৩০ আগস্ট ডোবা থেকে লাশ তুলে ঘটনাস্থলের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এদিকে ছেলেকে না পেয়ে পরদিন আল আমিনের বাবা শহিদুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরি করেন থানায়।

এর মধ্যে খোঁজাখুঁজির সময় ৩১ আগস্ট আল আমিনের জামা কাপড় তারা পান, পরে আরো অনুসন্ধান চালিয়ে মাটির নিচে লাশও পান তারা। জাহাঙ্গীর জানান, বিষয়টি থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্তে নেমে শুক্রবার তিন কিশোরকে গ্রেফতার করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে। তিনি বলেন, তারা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায়ের জন্য এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল। কিন্তু হত্যার পর নতুন সিম সংগ্রহ করতে না পারায় আল আমিনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। আল আমিনের বাবা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে ব্যবসা করছেন। তার কাছে বেশ টাকা আছে ধারণা থেকে ঐ তিন কিশোর এই পরিকল্পনা করে।

পিবিআই কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর জানান, লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার পর তিন জনই সাভারে পালিয়ে একটি হোটেলে উঠেছিল। সেখানে হোটেলের এক কর্মচারীর ফোন থেকে আল আমিনের বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় তারা। এরপর রাজবাড়ী পালিয়ে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছিল ঐ তিন  কিশোর। আর তা করতে গিয়েই পিবিআইয়ের জালে তারা ধরা পড়ে।