চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। চলতি বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। এতে রাস্তার খানাখন্দগুলো ক্রমশ আরো বড় হচ্ছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পারায় রাস্তা, খাল ও নালাগুলো পানিতে একাকার হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় নালায় পড়ে ইতিমধ্যে নগরীতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর প্রায় অর্ধেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা বেড়েছে। মুমূর্ষু রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না।
নগরবাসীর এই দুর্ভোগের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পকে দায়ী করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্প দুটির কারণে বহদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গার কাঠগড় পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কটিও কাঙ্ক্ষিত গতি হারিয়েছে বলে তাদের দাবি। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই নগরবাসীকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়কের শেখ মুজিব রোড, নিমতলা মোড়, সল্টগোলা, ইপিজেড মোড় পয়েন্টে প্রায় ২৪ ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। সড়কের দুই পাশে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, বিপিসি, সিইপিজেডসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সরকারি, বেসরকারি অফিস রয়েছে। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশা ও দীর্ঘ যানজটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বন্দর অভিমুখী পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানগুলো সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারে না। রাস্তায় খানাখন্দে যানবাহন পড়ে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু বিমানবন্দর সড়কই নয়, নগরীর মাঝিরঘাট থেকে বারিকবিল্ডিং সড়ক, পোর্ট কানেকটিং সড়ক, বহদ্দারহাট-মুরাদপুর সড়ক, ষোলশহর, অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক, চট্টেশ্বরী মোড় থেকে গোলপাহাড় হয়ে চমেক হাসপাতাল সড়কসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তাই সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। করোনার সময় লকডাউন থাকায় রাস্তায় যানবাহন চলাচল তেমন একটা না থাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থা টের পাওয়া যায়নি। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে।
এদিকে নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতে সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের কারণে বৃষ্টির সময় রাস্তায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এ কারণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে বিমানবন্দর থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কটিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, নগরীর বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। শিগিগরই সংস্কার কাজ শুরু হবে। এর আগে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বিভিন্ন সড়কে ‘প্যাচওয়ার্ক’ (ছোটখাটো সংস্কার) চলমান রয়েছে।