ফেরদৌসী মজুমদারকে নিয়ে কাকলীর নতুন ছবি

তানভীর তারেক

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী দীর্ঘ বিরতির পর তার চলচ্চিত্র নিয়ে আসছেন। নতুন ছবিটির নাম ‘ফ্রম বাংলাদেশ’। মুক্তিযুদ্ধসহ দেশপ্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশবরেণ্য অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। ছবিটি বর্তমানে ডাবিং টেবিলে রয়েছে। নিজের তৃতীয় চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী বলেন, ‘আমার ছবির গল্পে সবসময়ই গ্রাম-বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশভাগ গুরুত্ব পায়। এ ছবিটিও এর বাইরে নয়। ছবিটির একটি দারুণ চরিত্রে কাজ করেছেন আমাদের সবার প্রিয় ফেরদৌসী মজুমদার।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘ বিরতির পর কোনো নতুন চলচ্চিত্রে দেখা যাবে ফেরদৌসী মজুমদারের মতো এই বরেণ্য শিল্পীকে। খুব শিগগিরই পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করে ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুতি নেবেন বলে জানান নির্মাতা।

নিজের নির্মাণ ও বর্তমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা নিয়ে ‘ডিরেক্টর্স থটস’ নামের একটি অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই গুণী নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান চলচ্চিত্রের প্রধান সংকট হলো প্রকৃত প্রডিউসারের বড় অভাব। একটা সময় কাকরাইল পাড়া ছিল। যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রযোজকরা নিয়মিত বসতেন। নির্মাতারা সেখানে যেতেন। লগ্নিকারীরা যেতেন। একটা আড্ডা-আলাপ হতো। এখন সেই জায়গাটিও নেই। সেই অভাবটা প্রকট। আমি আমার গল্প, আইডিয়া কাকে বুঝাবো? কার সঙ্গে শেয়ার করবো? এটা তো একটা বই লিখে ফেলা না যে, মাথায় এলো আর লিখে ফেললাম। সিনেমা একটি সমন্বিত কাজ।’

বর্তমান সময়ে নির্মাতা-প্রযোজকদের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘দেখুন, এখন তো নিজের গল্প নিয়ে ঘুরে ঘুরে নানা ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করতে হচ্ছে। অনুনয় করে বলতে হচ্ছে প্লিজ আমার ছবিটা প্রডিউস করেন। কিংবা কোনো হিরো-হিরোইনকে নির্মাতা বলছেন, একটা প্রডিউসার জোগাড় করে দাও। এ তো ভীষণ লজ্জার একটি অবস্থা। এসব করে তো আমি সিনেমা বানাতে পারবো না। তাই আমি আমর মতো করেই কাজ করি। হয়তো সংখ্যায় কম হয়। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব বিকিয়ে কোনো কাজ আমি করতে পারবো না। এরপরও নিজের নেশা-পেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমি বলবো এ সময় একাধিক নির্মাতা কাজ করছে সিনেমার প্রতি তার অদম্য প্রেম থেকে। এটা তো বিশাল ব্যাপার।’

‘ফ্রম বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রটি নির্মাতার দীর্ঘদিনের শ্রম ও ভাবনার ফসল। এই ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বিপণনের কথা ভাবছেন তিনি। নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী বলেন, ‘আমার কাছে বরাবরই গল্পটাই মূল নায়ক। তাই যাকে যেমন চরিত্রে ভেবেছি তাকে সেভাবে রাখার চেষ্টা করেছি। আশা করছি দর্শকদের একটা মুগ্ধতার জায়গা যেমন তৈরি করবে, তার চেয়েও বড় কথা, এদেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, এসব নিয়ে একটা বোধের জায়গা তৈরি হবে এই ছবিটি মুক্তির পর।’