ইত্তেফাক রিপোর্ট
নিজস্ব সম্পদ দিয়েই আমরা চলতে পারব বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব সম্পদ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে। কাজ করছে বলেই সম্পদ বেড়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের বিভিন্ন শর্তের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুরুতে নানান নীতিমালার কথা বলে অনেক সময় ডোনাররা মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে চলে যায়। বর্তমানে আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। মাঝপথে ভাসিয়ে দিয়ে যদি ডোনার আমাদের থেকে বিদায় নেন তা হলেও আমরা পারব। আমাদের নিজস্ব সম্পদ দিয়ে চলতে পারব। গতকাল রবিবার রাজধানীর মিরপুর আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস অ্যাডুকেশনাল (ইউসেপ) বাংলাদেশে ‘মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও ইউসেপের গৌরবময় অভিযাত্রা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, ডোনারদের নিজস্ব নীতিমালা তারা পরিবর্তন করতেই পারে। তবে শেখ হাসিনা কখনো বলে না যে, উনার নীতিমালা পরিবর্তন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মানবিক। আমাদের দেশের দায়িত্বগুলো আমাদেরই বইতে হবে। এটাই আমাদের মূল কথা। বক্তৃতা দিয়ে কোনো সম্পদ সৃষ্টি হয় না। সম্পদ সৃষ্টি করতে হলে কাজ করতে হবে। লাখ লাখ মানুষ কাজ করছে বলেই সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান শিক্ষা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার ঘাটতি আছে। এই শিক্ষা দিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেওয়া যাবে না। দেশে সাক্ষরতার হারও সম্মানজনক না। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন পারভীন মাহমুদ উল্লেখ করেন, ইউসেপ বাংলাদেশ দীর্ঘ ৪৯ বছর যাবত্ বাংলাদেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবাদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউসেপে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে শিক্ষাদান ও তাদের কারিগরিভাবে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। ইউসেপে ইউকেএইড, অস্ট্রেলিয়ান সরকার, জার্মানি ও ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন এক সময় সহায়তা করলেও বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পের মাধ্যমে ইউসেপ পরিচালনায় সহায়তা করতে মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।