এসএসসি এইচএসসি ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। তবে ২০২১ এবং ২০২২ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তারা প্রতিদিন (সপ্তাহে ছয় দিন) ক্লাস করবে। এছাড়া প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস এবং মাধ্যমিকে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে এক দিন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মন্ত্রী জানান, শুরুতে চার ঘণ্টা করে ক্লাস হবে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রেণির ক্লাসের সময় বাড়ানো হবে। এ বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস হয়তো কিছুদিন পরেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর নবম এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ক্লাস হবে। তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে পাঠদান হবে। এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুইটি বা তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দেওয়া হবে ।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্য অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার একটি পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে আবারও উপাচার্যদের সঙ্গে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। তারা চাইলে এর আগেও খুলতে পারবে।

এছাড়া আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান উপযোগী করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হবে। কোনো অ্যাসেম্বলি করা যাবে না। তবে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে খেলাধুলার আয়োজন করা যাবে। বাড়িতে কেউ অসুস্থ থাকলে       তাকে স্কুল আসতে বারণ করেন তিনি।

বার্ষিক পরীক্ষার কী হবে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর পিইসি-জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা এবং অন্য শ্রেণিগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পিইসি (প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী), জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া থাকবে। অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যদি মনে করি পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব, তাহলে আমরা নেব।

বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগে খুলি। সেই পরিস্থিতি যদি থাকে, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা যদি আমরা নিতে পারি, তাহলে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া বিষয়ই না।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে।

১৯ দফা নির্দেশনা

শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নিতে স্কুল-কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন করাসহ মোট ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি গাইড লাইন প্রকাশ করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে :শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ মুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি বেঞ্চের দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট বা তার বেশি হয়, তবে প্রতিটি বেঞ্চে দুই জন করে ছয়টি বেঞ্চে মোট ১২ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে একটি ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পাঁচ ফুটের কম হলে একবেঞ্চে এক জন করে বসবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সব শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশমুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি কেবল একটি প্রবেশমুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে—সে বিষয়ে ব্রিফিং দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে :প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে । প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং অভিভাবক প্রবেশের সময় সরকার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঠিকভাবে মাস্ক (সম্ভব হলে কাপড়ের মাস্ক) পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করা যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারে।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পারস্পরিক তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।