৩৭ বছর ধরে সিডও সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এ বিষয়ে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেন নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলেন, সিডও সনদের ২ এবং ১৬.১-এর (গ) ধারা দুটি সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, অথচ সরকার নানা কারণ দেখাচ্ছে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘অর্থনীতিতে নারী ও সিডও বাস্তবায়ন :পরিপ্রেক্ষিত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ শীর্ষক অনলাইনে আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন, জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ফেরদৌসী সুলতানা, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি সোহেল রানা এবং বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক রীতা নাহার।
সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরির সময় সরকার সিডও সনদ ও নারীনীতি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না। সিডও সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণমাধ্যমের তত্পরতাও খুব বেশি দেখা যায় না। নীতিমালাগুলো জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে এনে সরকারকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি মনিটরিং, জবাবদিহি, বাজেট, জনবল নিশ্চিত না হলে নারীবান্ধব নীতিমালা থাকলেও অর্থনীতিতে নারীর অগ্রগতি টেকসই করা সম্ভব হবে না বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মালেকা বানু বলেন, বাংলাদেশ সরকার নানা কারণ দেখিয়ে ধারা দুটির ওপর সংরক্ষণ এখনো বহাল রেখেছে। এর ফলে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ যে ফলপ্রসূ তা বলা যাবে না।