পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভবানীপুর আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। এই আসন থেকে উপনির্বাচনে লড়বেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি; কিন্তু শনিবার সকালে ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই উপনির্বাচন আটকানোর পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে,
রাজ্যের বাকি চারটি আসনে উপনির্বাচন না করে কেন শুধু ভবানীপুরেই ভোট হবে, এই প্রশ্ন তুলে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি।
দলটির সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, শনিবার রাতেই জরুরি বৈঠক ডেকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ঠিক হয়, দুই-এক দিনের মধ্যেই ভবানীপুরের উপনির্বাচন বাতিলের দাবি নিয়ে আদালতে যেতে পারে তারা। এজন্য প্রভাবশালী কোনো আইনজীবীর সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে। বিজেপি চাইছে, এই মামলা যাতে আদালতের নির্দেশে সাংবিধানিক বেঞ্চে যায়। রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, যে কোনোভাবে হোক কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করব। বিজেপি যে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, শনিবার বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেই এর আভাস ছিল। এরপরে রাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে শুভেন্দুসহ রাজ্য নেতাদের ভার্চুয়াল আলোচনা হয়। বিজেপি সূত্র জানায়, দলের আইনজীবী ও এমপি মহেশ জেঠমালানিকে সামনে রেখে এই লড়াইয়ে নামতে পারে তারা।
প্রসঙ্গত, গুজরাট দাঙ্গার একাধিক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের আইনজীবী ছিলেন মহেশ। পরে তিনি রাজ্যসভায় মনোনীত এমপি হন। এক বিজেপি নেতা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে এমপি মহেশই মামলাটি লড়বেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের নির্বাচনসংক্রান্ত যে কমিটি রয়েছে তারাই বিষয়টি দেখছেন। কী করা হবে আর করা হবে না—সেটা তারাই ঠিক করবেন।
প্রসঙ্গত, মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস চায় উপনির্বাচন দ্রুত হোক। এজন্য দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে দুই বার গেছে তৃণমূল প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতির কারণে উপনির্বাচন এখনই দরকার নেই বলে দাবি তুলেছিল বিজেপি।