এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য হলে পরিচালনা কমিটি শিক্ষক নিয়োগ দিতেন। শুধু নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা শিক্ষক হিসেবে আবেদন করার সুযোগ পেতেন। নিয়োগ বোর্ডে বাধ্যতামূলকভাবে একজন ডিজির প্রতিনিধি থাকতেন। নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ইত্যাদি কারণে এখন সরাসরি এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছেন। নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতায় প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমার প্রতিষ্ঠানে ২৮-২-২০১৭ তারিখে আরবি প্রভাষকের একটি পদ শূন্য হয়, দুই দুইবার এনটিআরসিএ-তে চাহিদা দেওয়ার পরও শিক্ষক পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিলা কোটা পূর্ণ না থাকায় এবং মহিলা আরবি প্রভাষক পাওয়া না যাওয়ায় শিক্ষক দেওয়া হয়নি। কমিটির হাতে নিয়োগ থাকাকালীন আরবি, ইংরেজি, গণিত শিক্ষকের পদে দুবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মহিলা পাওয়া না গেলে পুরুষ নিয়োগ দেওয়া যেত; কারণ এ পদগুলোতে মহিলা শিক্ষকের সংকট রয়েছে। শুনেছি সরকার কোটা প্রথা তুলে দিয়েছে, তারপরও কোটার কারণে পদগুলো দীর্ঘদিন খালি থাকছে। আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষক পদত্যাগ, অবসর গ্রহণ ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী ছয়জনসহ এগারটি পদ শূন্য আছে। এনটিআরসিএ-তে চাহিদা দেওয়ার পর মাত্র দুজনকে নিয়োগের জন্য বর্তমানে সুপারিশ করেছেন, বাকি নয়টি পদ শূন্য আছে—সেগুলো কবে পূরণ হবে কেউ বলতে পারে না। দুই-একটি পদ শূন্য হলে অন্যরা কষ্ট করে কোনো রকমে হলেও কিছুদিন চালিয়ে নিতে পারেন; কিন্তু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক হওয়ায় একজনের ক্লাশ অন্যজনের পক্ষে পরিচালনা অনেক কঠিন। খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চালানোর ক্ষমতা মফস্সলের অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোর আর্থিক ভিত মজবুত না হওয়ায় তা সম্ভব হয় না। এজন্য এনটিআরসিএ বছরে দুই বছরে একবার চাহিদা না নিয়ে একটি প্যানেল তৈরি করে রাখলে যখনই পদ শূন্য হবে—চাহিদা দেওয়ার সুযোগ ও সে অনুযায়ী শিক্ষক প্রদানের ব্যবস্থা করলে অথবা অস্থায়ী সময়ের জন্য কমিটির মাধ্যমে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া শিক্ষককে আলাদা এমপিওর মাধ্যমে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যা দূর হবে। এভাবে দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে ফলাফল খারাপ হলে দায়ভার প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তানো ঠিক হবে না। বিষয়টি বিবেচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. ইয়াছিন মজুমদার
অধ্যক্ষ, ফুলগাঁও ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসা,
ডোমবাড়িয়া, লাকসাম, কুমিল্লা