গ্রাহক নিরাপত্তায় সাইবার সিকিউরিটি সেল করেছে বিটিআরসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাইবার জগত এর কনটেন্ট মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)তে নতুন করে ‘সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার। 

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসির প্রধান সম্মেলন কক্ষে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, কনটেন্ট ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াবলী’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। বিটিআরসিতে যোগদান পরবর্তীতে অনলাইনে গ্রাহকের নিরাপত্তা বিবেচনায় তার দিকনির্দেশনায় এই সাইবার সিকিউরিটি সেলের কাঠামো বিন্যাসের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলেও জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান। 

শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, বিটিআরসি প্রতিনিয়ত অনলাইন মনিটরিং করছে, তবে এক্ষেত্রে আমাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কিভাবে সাইবার জগতকে অধিক নিরাপদ করা যায় সে বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার, আইনশৃংখলা বাহিনী এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি আভ্যন্তরিণ যেকোনো ওয়েবসাইট, লিংক, ব্লগ বা সংশ্লিষ্ট অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ, সাময়িক স্থগিত অথবা অপারেশনাল কার্যক্রম সীমিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

স্বাগত বক্তব্যে কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে সাইবার জগতে অপ্রীতিকর ঘটনা বাড়ছে, এতে অনেকের সামাজিক এবং পারিবারিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী, ধর্মীয় উসকানীমুলক বা এ সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট অপসারণ কিংবা বন্ধ করার অনুরোধ পাওয়া সাপেক্ষে বিটিআরসি কারিগরী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অতএব, কেউ সামাজিক মাধ্যম দ্বারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তা নিলে বিটিআরসি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। 

পরবর্তীতে বিটিআরসির সিস্টেমস এন্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রি: জে মো: নাসিম পারভেজ জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৮ ধারা এর (১ ও ২) উপধারা অনুযায়ী আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি এর মহাপরিচালক এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যম থেকে কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার জন্য বিটিআরসিকে অনুরোধ করবে। এরপর বিটিআরসি অবমাননাকর পোস্ট এবং আপত্তিকর কনটেন্ট সরাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে কনটেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআরএস) এর মাধ্যমে অনলাইনে অনুরোধ জানায়। এরপর তারা তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী কনটেন্ট অপাসারণ করে। 

এছাড়া, সরকারের অনুমোদনক্রমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম (ডট) এ স্থাপিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন এন্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) নামক কারিগরী সিস্টেমের মাধ্যমে আপত্তিকর ওয়েবসাইট , ডোমেইন এবং ব্লগ বন্ধ করার কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। ইতোমধ্যে সিটিডিআরের মাধ্যমে ২২,০০০ পর্নোগ্রাফি ও জুয়ারি সাইটে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে।   গত এক বছরে বিটিআরসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ১৮,৮৩৬ টি লিংক অপসারণের অনুরোধ করে যার মধ্যে ৪,৮৮৮ লিংক অপসারণ করা হয় এবং ইউটিউবে ৪৩১ টি লিংক বন্ধ করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ৬২টি লিংক বন্ধ করা হয়।  এছাড়া, সিটিডিআর এর মাধ্যমে ১,০৬০টি ওয়েবসাইট এবং লিংক বন্ধ করা হয় । 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: আফজাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অনেকেই অপব্যবহার করছে, আপত্তিকর কনটেন্ট, ভিডিওর ফলে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে, দেশি-বিদেশী অপশক্তিকে প্রতিহত করতে অনলাইনের ক্ষতিকর উপদান অপসারণে ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি কাজ করছে। 

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: আফজাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যেদের মধ্যে সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের কমিশনার ও মহাপরিচালকগণসহ বিটিআরসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 


ইত্তেফাক/আরকে