আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেই বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
‘বিএনপির শাসনামলে স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতির সফল বাস্তবায়ন হয়েছে’ মর্মে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের এমন দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা আদৌ সত্য নয়, তাদের এ দাবি অন্যান্য বক্তব্যের মতোই অসত্য ও অন্তঃসারশূন্য। তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ছিল চরম স্থবিরতা। বাজেট ছিল পরনির্ভর, ছিল না বাস্তবায়নে কোনো সক্ষমতা। বিএনপির উন্নয়ন নীতি ও কৌশল ছিল ভ্রান্ত এবং গণবিরোধী। ওবায়দুল কাদের বলেন, উত্পাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি বিদ্যুত্ ব্যবস্থাকে বিএনপি ধ্বংস করে দিয়েছিল। দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল বিএনপির তথাকথিত উন্নয়ন। শুধুমাত্র বিদ্যুত্ খাত নিয়ে তুলনা করলেই বিএনপির দাম্ভিকতা চূর্ণ হতে বাধ্য। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি তাদের সময়ে সারের জন্য কৃষকদের প্রাণ দিতে হয়েছিল, এসব কি স্থিতিশীলতার নজির?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ক্ষয়িষ্ণু, মুখোশ পরা অর্থনীতির বিপরীতে টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারায় দেশ আজ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব অর্থনীতির বিস্ময়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি দেশকে পরনির্ভরশীল ও নতজানু দেখতে চায়, চায় তাবেদার হয়ে থাকতে। আওয়ামী লীগ দেশকে একটি মর্যাদাশীল এবং সমৃদ্ধ অবস্থানে উন্নীত করতে চায়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা দুর্নীতির কথা বলেন, অথচ তাদের শাসনামলে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির সময়কাল ছিল। বিএনপির সময়কাল ছিল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য এবং যে কারণে পর পর পাঁচ বার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।