বগুড়া সিআইডির নয়ন আপাতত তদন্তকাজ করতে পারবেন না

পেশাগত অসদাচরণ ও অদক্ষতার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় নাটোর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক নয়ন কুমারকে আপাতত তদন্তকাজ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ‘ছোট ভাই হত্যার মামলায় ১২ বছর বয়সি বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি এম আতোয়ার রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর আলীকে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার মেডিক্যাল রিপোর্ট, নতুন নেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও আদালতের আদেশের অনুলিপি দাখিল করতে বলা হয়েছে।

১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী। রিটে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন তার বাবা মহিদুল। জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে ১২ বছরের বড় ছেলেকে নিয়ে যায়। পরে শিশুটি বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। দিনমজুর মহিদুলের অভিযোগ, খুনিরা প্রভাবশালী। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ছোট ছেলেকে খুনের স্বীকারোক্তি দিতে বড় ছেলেকে বাধ্য করা হয়েছে। পরে অভিযোগপত্র দিলে তাতে             নারাজি দেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ২০১৭ সালে পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় আদালত। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন।

শিশির মনির বলেন, মামলাটির যথার্থতা ও আইনগত দিক পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে করা রিট মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পরিদর্শক নয়ন কুমার কোনো তদন্তকাজ করতে পারবেন না।