ঢাকার মেয়ে নাজীয়া। ছোটবেলায় বহু খেলনা উড়োজাহাজ বানিয়ে সারাদিন তা নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। বড় হয়েও যেন এভিয়েশন সেক্টরে সম্পৃক্ত হতে পারেন এমনই স্বপ্ন ছিল তার। এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ পাঁচ পেয়ে নাজীয়া কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চার লাখ টাকা বেতনে বিমান কোম্পানি প্লেইনফিল্ডে ইন্ডিয়ানা বিমানবন্দরে এয়ারক্রাফট অ্যাসোসিয়েট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। নাজীয়া তার বর্তমান অবস্থানের পিছনে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজির ভূমিকা নিয়ে বলেন, ‘এই এভিয়েশন কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগতমান অসাধারণ। আমি এই কলেজে বিভিন্ন এয়ারক্রাফট সম্পর্কে হাতেকলমে প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।’
বিএসসি অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত চার বছরের অনার্স কোর্স যেখানে আট সেমিস্টার পড়াশোনা করে আপনি এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, এভিওনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারলাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারপোর্ট ডিজাইন এন্ড প্ল্যানিং, স্যাটেলাইট, স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, রোকেট্রি, রাডার সিস্টেমস, রিমোট কন্ট্রোল সেন্সিং সিস্টেমস, হিউমান মেকানিক্স, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেমস, এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ম্যানেজমেন্ট, এয়ারক্রাফট ডিজাইন, রেডিও ইলেকট্রিকাল সিস্টেমস, থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, রাডার ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংসহ স্যাটেলাইট অ্যান্ড টেলিকম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিসিএস, সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে কাজ করতে পারবেন।
এখানে আপানি বিএসসি ইলেকট্রিকাল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৬০ ক্রেডিট অধ্যয়ণ করবেন যা আপনাকে ইলেকট্রিকাল, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিসিএস, সরকারি ও বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে চাকরি পেতে সুযোগ দেবে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্চের এয়ারলাইন্স এমিরেটস, কাতার, গালফ, কুয়েত, ওমান, সাউদিয়াসহ অন্য যে এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করে সেগুলোতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
যোগ্যতা :বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর অথবা পূর্ববর্তী বছর এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা বিএসসি অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনার্স কোর্সে আবেদন করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনলোজি হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। এই কলেজে সিলেট থেকে পড়তে আসা মাহফুজ বলেন ছোটবেলা থেকেই মনে স্বপ্ন ছিল এয়ারলাইন্সে কাজ করার। তাই এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে বর্তমানে আমেরিকায় অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছি। মিরপুরের শাহেদ বলেন, এখানে ভর্তি হয়ে সকল প্রশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে শেষ করে বিশ্বখ্যাত জার্মান বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কোম্পানি হাইটেক এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স জিএমবিএইচ-এ চার লাখ টাকা বেতনে ফ্রাংকফুর্ট হান বিমানবন্দরে কাজ করছি।
এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে নাজীয়ার মতো অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানির বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানিতে চাকরি করছেন। বর্তমানে এভিয়েশন সেক্টরে বিপুল দক্ষ লোকের অভাব তাই ক্যারিয়ার গড়ার এটাই আদর্শ সময়। বিস্তারিত জানতে ০১৯২৬৯৬৩৬৫৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।