খুড়িয়ে চলছে নাজিরপুরের কামার শিল্প

নানা সংকট ও বিপত্তির মুখে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামকাঠী বন্দরের কামার শিল্প। শতবর্ষী এ শিল্পে এতোদিন কর্ম ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে তা চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।

এক সময় শ্রীরামকাঠী বন্দরের বাসিন্দাদের সকাল বেলার ঘুম ভাঙতো কামার পট্রির টুং টাং শব্দে। তবে সেই শব্দ এখন শুধুই অতীত। কোরবানির সময় কামার পট্টিতে একটু ব্যস্ততা থাকলে ও  বছরের বেশীর ভাগ অলস সময় কাটান কামার সম্প্রদায়ের লোকজন। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।

প্রায় ১০০ বছর আগে পেয়ারী কর্মকার, সন্তোষ কর্মকার ফরিদপুর জেলা থেকে এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। কালের পরিক্রমায় এই এলাকা শ্রীরামকাঠী বন্দরের কামারপট্টি নামে পরিচিতি লাভ করে। এক সময় কৃষিকাজ ও গৃহস্থলি কাজে ব্যবহৃত অধিকাংশ লৌহজাত যন্ত্রপাতি কামারাই তৈরি করতেন, যার মধ্যে লাঙ্গলের ফলা, দা, বঁটি, কোদাল, কুঠার, খোন্তা, কাঁচি, চাকু, চা-পাটি, রামদা, বাইশ, র্শতা, ঘর নির্মাণের কাজের জন্য খেরী লোহা, চৌকাটের লোহা, কাচ পাইরের লোহা, কোলদার ও উবির লোহা ছিল প্রধান। কাঠের বাছারী, পাঙ্কশীসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরিতে গালি বসানোর লোহা, মলমের লোহা, পাতাম লোহা, টাবুশে লোহা, দিনারী লোহা, মালা লোহা, গ্যাড়া লোহা ছিল উল্লেখযোগ্য। নৌকার শেকল, নোঙ্গর, তালা ইত্যাদি তৈরি হতো এখানে।

কামারশালায় হাপর দিয়ে কয়লার আগুন জ্বালিয়ে লোহা গরম করে তা পিটিয়ে বিভিন্ন প্রকার লোহার যন্ত্রপাতি তৈরি করা হতো এখানে। কালের আর্বতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেসব নৌকা হারিয়ে যাওয়ায় এসব লোহার ব্যবহার আর নেই। অন্যদিকে স্টিলের তৈরি বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির কারণে এ শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে।

সঞ্জয় কর্মকার জানান, বাপ-দাদার এ প্রাচীন পেশা আমরা ধরে রাখলে ও আমাদের ছেলে সন্তানরা অন্য পেশায় চলে গেছে। আমাদের কাছে কাজ শিখে স্বপন মজুমদার, মিন্টু বেপারী, রিপন বেপারী, দেবাশীষ বেপারী এ ব্যবসা শুরু করেছে। হরেকৃষ্ণ কর্মকার জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারবৃদ্ধি, লোহার দাম বৃদ্ধি, কারিগর সংকট, শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়া চাহিদা মত কয়লা সংকটের কারণে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে শ্রীরামকাঠীর কামার শিল্প।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি