নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারী ২৩ মামলার আসামি মো. শহিদুল্যা রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেল (২৯)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, পুলিশের আরেকটি অভিযানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী  ৫ মামলার আসামি মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ওরফে শাহীন চৌধুরী (৪২)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসপি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে পুলিশি অভিযানের সময় কোম্পানিগঞ্জ থানার  লোহারপোল থেকে মো. শহিদুল্যা রাসেল ওরফে  কেচ্ছা রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার শপিং ব্যাগে থাকা ১টি এলজি, ১টি পাইপ গান  ও ৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোম্পনীগঞ্জ থানায় পুলিশ আক্রান্ত ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৫টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২টি, ডাকাতি-দস্যুতার অভিযোগে ৩টি ও চুরি ১টিসহ মোট ২৩টি মামলা রয়েছে। তিনি আরও জানান,  মো. শহিদুল্যা রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেল একজন সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ক্যাডার। তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা থাকার পরও পলাতক থাকাবস্থায় সে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারী হয়ে এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ত্রাস সৃষ্টি, চুরি, ডাকাতি, পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো  অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা  হয়েছে। গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)  মো. আকরামুল হাসান  ও জেলা ডিবির  ওসি  মো. সাইফুল ইসলাম। 

মো.শহীদুল ইসলাম আরও জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান  নজরুল ইসলাম ওরফে শাহীন চৌধুরীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানার বিস্ফোরক আইনে ৩টি,  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২টিসহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে।  শাহীন চৌধুরী প্রভাব প্রতিপত্তি, অর্থ জোগান দিয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের পক্ষে কাজ করে আসছিলেন। তিনি ৫টি মামলার আসামি হয়েও পলাতক থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমান বাদলের পক্ষে মুছাপুর এলাকায় প্রশাসনের কাজ বাধা দেন।  এ কারণে  আইনানুগ ও নিয়মিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা  করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি/এনই