বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে

আনন্দ বিনোদন প্রতিবেদক

 

জাতীয় জাদুঘরের সামনের খোলা আঙিনায় শোভা পাচ্ছে এবং বাঙালির সংগ্রামী ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে অবিসংবাদিত নেতার বিশালাকৃতির অবয়বটি। তর্জনী উঁচিয়ে তেজোদ্দীপ্ত অভিব্যক্তিতে ভাষণ দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শিল্পের আশ্রয়ে উপস্থাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক সাত মার্চের প্রেক্ষাপট। জাদুঘরে প্রবেশের আগেই শিল্পকর্মটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। আগ্রহভরে তারা দেখছেন ভাস্কর্যটি। কেউ-বা আবার শিল্পকর্মটির সঙ্গে ফ্রেমবন্দী করছেন নিজেকে। তুলছেন সেলফি। আর এভাবে সমকালে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা আলিঙ্গন করছেন গৌরবময় অতীতকে। ভাস্কর্যটি গড়েছেন সব্যসাচী ভাস্কর উত্তম ঘোষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে গড়া ভাস্কর্যটি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিক্ষামূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হাসুমণির পাঠশালা। এগারো মাস পেরুনো এই অস্থায়ী প্রদর্শনীটি জাদুঘরে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বঙ্গবন্ধুকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ভাস্কর্য। তবে আঙ্গিক ও উপস্থাপনা শৈলীতে বিশেষত্ব পেয়েছে ভাস্কর্যটি। ফাইবার গ্লাসের মাধ্যমে সৃজিত ১২ ফুট উচ্চতার অবয়বটি মেলে ধরেছে বঙ্গবন্ধুর বীরত্বগাথা। স্বাধীনতার মহানায়কের অপরাজেয় মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে নির্মাণ কৌশলে। জাতির জনকের মুখাবয়ব, দাঁড়ানোর ভঙ্গিমা, জনতার উদ্দেশে তর্জনী তোলা কিংবা পরিধেয় পোশাকসহ সবকিছুতেই রয়েছে যত্নের ছোঁয়া। ভাস্কর্যটির ভাবার্থকে চমত্কারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন শিল্প-সমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ। তার ভাষায়, ‘যে মুজিব নিরন্তর আমাদের জাগিয়ে রাখে, আশার বার্তা প্রেরণ করে, সাহসী হতে বলে, জন্মভূমি রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো অঙ্গীকারাবদ্ধ  থাকার শপথ পাঠ সেই মুজিবকেই শিল্পের অন্বিষ্ট করেছেন উত্তম ঘোষ। মৃত্যুহীন চিরঞ্জীব মুজিবকে অনুভবে নিয়েই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন এই ভাস্কর। তর্জনী উঁচানো উত্তোলিত হাত আর কালবৈশাখী মেঘ-গর্জনের মতো, শব্দ নয় যেন, তপ্ত গোলার মতো বাণী বর্ষণে শিল্পসূত্র অন্বেষণ করেছেন এই সব্যসাচী ভাস্কর। বস্তুত তার এ কাজ জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। তিনি মুজিব মানে বুঝেছেন বীরত্বের পূজা। বোধ হয় সব মানুষই কোনো না কোনো মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবনত থাকে।’ ভাস্কর্যটি নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে শিল্পীর দায়বদ্ধতা। এ প্রসঙ্গে সব্যসাচী উত্তম ঘোষ বলেন, ‘আমার কাছে বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। সেই বিবেচনায় স্বদেশেরই প্রতিচ্ছবি শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ আর মুজিব একে অপরের সম্পূরক। এ কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে ভাস্কর্যটি গড়ার উদ্যোগ নেই। পাঁচ  মাসের দীর্ঘ শ্রমের ফসল এই শিল্পকর্ম। মূলত বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের প্রকৃত রূপটিকে প্রকাশের চেষ্টা করেছি। জাতির পিতার প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেছি শিল্পের মাধ্যমে। এই শিল্পকর্মটি এখন জাদুঘর ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। একেবারে সাধারণ মানুষ থেকে বোদ্ধামহলে প্রশংসিত হয়েছে কাজটি। সেই প্রেক্ষাপটে আমার চাওয়া— ভাস্কর্যটি যেন জাদুঘরের স্থায়ী নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। এ বিষয়ে জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। ভাস্কর্যটি জাদুঘরের স্থায়ী নিদর্শন হিসেবে সংগ্রহের জন্য বরেণ্য শিল্পী হাশেম খানকে সভাপতি করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠিত হয়েছে। শিল্পকর্মটি স্থায়ীভাবে জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে কি না সে বিষয়ে এই কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’