ইত্তেফাক ডেস্ক
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেয় সরকার। ঘোষণার পর থেকে স্কুল খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন, স্যানিটাইজ ও স্কুল চত্বরসহ আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। এদিকে মির্জাপুরে বিভিন্ন স্কুলে এখনো রয়েছে বন্যার পানি। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
পাবনা :স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষকরা। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলা নিয়ে আশার আলো দেখছেন অভিভাবকরাও। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখর হবে পাবনা জেলার মোট ১ হাজার ৮১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পাবনা সদরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। সদর উপজেলার আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল খোলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা। স্কুল চত্বরের আগাছা পরিষ্কার, স্কুলের দেয়াল ও কক্ষে ঝাড়া-মোছাসহ শ্রেণি কক্ষগুলো পরিষ্কার করতে ব্যস্ত রয়েছেন তারা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল চালু করা হবে এমন কথা জানতে পেরেছি। তারপর থেকে আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এত দিন পাঠদান বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষ জরাজীর্ণ ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করে পাঠদান উপযোগী করে তুলছি। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ফোনে স্কুল খোলার বিষয়টি অবহিত করছি। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে সভা করে, কোথাও সরেজমিন গিয়ে স্কুল খোলার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছি। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আশা করছি ১২ তারিখের আগেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
গাইবান্ধা :১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর গাইবান্ধার শিক্ষকরা পাঠদানে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নিয়েছেন। তারা এখন বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ ১৮ মাস অব্যবহূত থাকায় শ্রেণিকক্ষের যেসব আসবাবপত্র ও বেঞ্চ ময়লাযুক্ত হয়ে পড়েছিল, সেগুলো পরিষ্কার ও ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এখন। বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মচারীরা বিদ্যালয়ের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, করোনার জন্য দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। পাঠদান চালুর খবরে তারা সবাই খুশি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়গুলোকে পাঠদানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রাণীনগর (নওগাঁ) : উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের জোর প্রস্তুতি চলছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাঠদানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তবুও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আমি ও আমার দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি সামনে রেখে সরকারের বেঁধে দেওয়া সব নির্দেশনা সম্পন্ন করা হয়েছে কি না সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিদিনই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছি।
মির্জাপুরে বিভিন্ন স্কুলে বন্যার পানি
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, মির্জাপুরে বন্যায় পৌরসভাসহ আট ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন বিপাকে পড়েছেন। বুধবার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে। ভাওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমহজাদ হোসেন ও ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, বন্যার পানিতে ভাঙনের ফলে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ১৭০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টি বিদ্যালয়ের ভেতর এবং ৮৭ বিদ্যালয়ের মাঠসহ আংশিক বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে স্কুল খোলার বিষয়ে সব প্রস্তুতি প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।