সাঙ্গুর তীরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে দুই ইউটিলিটি ফেরি

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কে সাঙ্গু নদীতে তৈলারদ্বীপ সেতু চালু হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। সেতু চালু হওয়ার পর সাঙ্গু নদীর তৈলারদ্বীপ-চানপুর নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই রুটে চলমান ফেরিগুলো প্রত্যাহার করে অন্যত্র ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থেকে মরিচা ধরে দুটি ফেরির একটির প্রায় কিছু নেই বললেই চলে। অন্যটি যেন থেকেও নেই। এক অংশ প্রায় পানির নিচে ডুবে আছে। বাকি অংশে গবাদি পশুর খড়, গাদা ও গোবর শুকাতে দিয়েছে স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকের দিকে আনোয়ারা-বাঁশখালীর মানুষের কষ্ট দূর করতে তৈলারদ্বীপ-চানপুর নৌ-রুটে ফেরি চালু হয়। পরে ২০০১ সালে ফেরিঘাট সংলগ্ন একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সরকার এবং ঐ বছরের ১৭ জানুয়ারি সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ইউটিলিটি টাইপ-২ নামে কোটি টাকা মূল্যের উন্নতমানের এই ফেরি দুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

উপজেলার ৬ নম্বর বারাখাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল জানান, ফেরি দুটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই ফেরিগুলো দিয়ে প্রতি বছর অনেক টাকা রাজস্ব আয় করত সরকার। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এই সম্পদ নদীতে বিলীন হতে বসেছে। ফেরি দুটির কারণে ফেরিঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজও বন্ধ হয়ে আছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দোহাজারী শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ফেরি দুটি অপসারণ করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগিগরই তা অপসারণ করা হবে।