জীবন চলার পথে যা কিছু দেখেছি, অনুভব করেছি, তা আঁকার চেষ্টা করতে গিয়ে এক একটি উপন্যাসের চিত্রায়ন হয়েছে। উপন্যাস মানেই শুধু অলীক কিছু হবে তেমন কোনো ব্যাপার আসলে নেই। তবে লিখতে গিয়ে, ছাপতে গিয়ে অনেক রকমের প্রতিবন্ধকতাও ছিলো। তবে দিনশেষে একটি বই যখন প্রকাশিত হয়েছে- তখন মনে হয়েছে যেনো নিজের সন্তানের জন্ম হয়েছে। আর এই বই যখন পাঠকের হৃদয়ে দাগ কাটে তখন যে অনুভূতি কাজ করে সেটা বলে বোঝানো কঠিন।
প্রতিশ্রুতিশীল দুই লেখক আবদুল্লাহ আল ইমরান ও কিঙকর আহ্সান ‘গল্প নামে চট্টগ্রামে’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে নিজেদের গল্পের ঝুড়ি এভাবেই মেলে ধরেন। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অন্বেষা প্রকাশনের আয়োজনে এবং বাতিঘরের সহযোগীতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিজেদের লেখক হয়ে উঠার গল্প বলার পাশাপাশি পাঠকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন এই দুই লেখক।
অনুষ্ঠানে পাঠকের প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, ‘শ্রমিক এলাকার নদীপাড়ে বেড়ে উঠেছি বলে জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। সুযোগ হয়েছে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে মেশারও। যাদের জীবনজুড়ে অসংখ্য ঘটনা, অজস্ত্র গল্প। এই গল্পগুলো আমাকে ভাবায়, অভিভূত করে। লিখতে বসলে সেসব মনে পড়ে। মনে পড়ে ফেলে আসার মুখ, মানুষের মানচিত্র। এসবই লিখি আমি, লিখি মানুষের গল্প।’
তিনি বলেন, ‘একটা ছোট্ট শিশু, সে টাকা জমিয়েছে চিকেন গ্রিল খাওয়ার জন্য। কিন্তু দোকানি তাকে দোকানে বসতে দিচ্ছেনা। কিনে নিয়ে বাহিরে গিয়ে খেতে বলছে। সে নিম্নবিত্তের সন্তান। তাকে কেউ নাম ধরে ডাকেনা। এটা তার অনেক দু:খ। এসব কথাগুলোই আমার লেখায় আঁকার চেষ্টা করি।’
কিঙকর আহ্সান বলেন, ‘বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। একটি বইয়ের দু’চার পৃষ্ঠা পড়লেই ওই বইটি পাঠককে টানবে। তাই, এখনই পড়া শুরু করতে হবে। পড়তে বসলেই বইয়ের প্রতি আস্তে আস্তে ভালো লাগা তৈরী হবে। বইয়ের প্রতি প্রেম আসবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, ফ্যাশন ফর লাইফ এর কো-ফাউন্ডার আনিস ওয়ারেসি, শিহাব সাগির, বাতিঘরের সত্ত্বাধিকারী দীপংকর দাশ, হিমু পরিবহনের সংগঠন মাইনুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি