কোন দিন কোন শ্রেণির ক্লাস নির্ধারণ করবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। সে আলোকেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পাঠদানের উপযোগী করা হচ্ছে। চলছে স্কুল-কলেজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদানের উপযোগী করতে গলদ্ঘর্ম পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। শ্যাওলা জমেছে সিঁড়ি ও বারান্দায়। বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে অনেক দিন ধরেই। উপযোগী করতে অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার দিন থেকে কোন দিন কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে সেটা নির্ধারণ করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কীভাবে রুটিন হবে এ বিষয়ে গতকাল বুধবার একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

গাইডলাইন অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক দিন প্রতিষ্ঠানে আসবে। সপ্তাহে প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দুটি করে ক্লাস ধরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রুটিন তৈরি করবে। রুটিনের সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাবহারিক ক্লাস নির্ধারণ করার কথা বলা হয় এ গাইডলাইনে। গাইডলাইনে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর সংযুক্ত রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠান ঐ সব স্তরের জন্য নির্ধারিত ক্লাসগুলো সমন্বয় করে রুটিন করবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলমান ডিগ্রি, সম্মান ও মাস্টার্স পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে ২০২১ ও ২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য রুটিন প্রণয়ন করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।  রুটিন প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, প্রস্থান ও অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা না ঘটে।

বলা হয়েছে,  রুটিন       এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপাতত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে হবে। এছাড়া  পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস রুটিন তৈরির ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার উপযোগী করে তোলার জন্য আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১৯টি নির্দেশনা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো,  প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিত্সার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে।  প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করা যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয় তদারকির জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।