বগুড়ায় ২১ জীবিত ব্যক্তি ভোটার তালিকায় মৃত!

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় হালনাগাদ ভোটার তালিকায় ২১ ব্যক্তিকে মৃত দেখানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঐ ২১ ব্যক্তি জীবিত আছেন। ভোটার তালিকায় মৃত দেখানোর ফলে এসব ব্যক্তি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ, ব্যাংকঋণ, করোনার টিকাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। তালিকায় নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে ধুনট পৌরসভা এলাকার দুই জন, সদরে এক, মথুরাপুরে তিন, কালেরপাড়ায় ছয়, নিমগাছীতে দুই, চৌকিবাড়িতে পাঁচ, এলাঙ্গী ও ভান্ডারবাড়িতে এক জন করে মোট ২১ জনকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ঐ ২১ জন এখনো জীবিত আছেন।

২০০৯ সালের জুলাই থেকে মথুরাপুর গ্রামের সুশীলা রানী হালদারের বয়স্ক ভাতা চালু হয়। ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত তিনি ভাতার টাকা উত্তোলন করেছেন। এ অবস্থায় তাকে ভোটার তালিকায় মৃত উল্লেখ করায় বয়স্ক ভাতার কার্ড বাতিল হয়ে যায়। সুশীলা রানী হালদার বলেন, ‘আমি এখনো জীবিত। তবু ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। বয়স্ক ভাতার কার্ডও বাতিল করা হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।’

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের হায়দার আলী বলেন, একটি এনজিওতে গিয়েছিলেন ঋণের জন্য আবেদন করতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে তাকে ঐ এনজিও থেকে আর ঋণ দেওয়া হয়নি।

ধুনট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল কাফী জানান, ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলে আবারও ভাতার জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

ধুনট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোকাদ্দেছ আলী বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ভুলবশত ২১ জীবিত ব্যক্তি মৃতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। গত ২৭ জুন তাদের নাম নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন তিনি।