উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি

ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। তবে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, ধলেশ্বরী, আত্রাইসহ আট নদ-নদীর পানি ১৬টি পয়েন্টে এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে আছে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট। বেড়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। পানি কমার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে নদীভাঙন। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। খাবার, শিশুখাদ্য আর বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। গতকাল বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার ধারা অব্যাহত থাকবে আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত। পদ্মাসহ আট নদ-নদীর পানি এখনো বিপত্সীমার ওপরে থাকায় সিরাজগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আভাস রয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আত্রাইয়ের পানি বাঘাবাড়ীতে বিপত্সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ধলেশ্বরীর পানি এলাসিনে ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, শীতলক্ষ্যার পানি নারায়ণগঞ্জে ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, তুরাগের পানি কালিয়াকৈরে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কালীগঙ্গার পানি তরাঘাটে ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ধলেশ্বরীর পানি জাগিরে ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পদ্মার পানি গোয়ালন্দে বিপত্সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, ভাগ্যকূলে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, মাওয়ায় ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ও সুরেশ্বরে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গড়াই নদীর পানি কামারখালীতে বিপত্সীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনার পানি চাঁদপুরে প্রবাহিত হচ্ছে বিপত্সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। এগুলোর মধ্যে মেঘনা, তুরাগ ও ধলেশ্বরীর পানি জাগিরে বেড়েছে। পদ্মাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানিও এক দিনের ব্যবধানে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরে পদ্মার পানি বিপত্সীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার কবলে পড়েছে প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে ও কাজীপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি দ্রুত কমে এখন বিপত্সীমার নিচ দিয় প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিক সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ী ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমলেও এখনো সেখান বিপত্সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয় প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার কমে গতকাল বুধবার সকালে তা বিপত্সীমার ৯ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ২১ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময় বাঘাবাড়ী ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগবালাই। ডায়রিয়া, নিউমুনিয়া, চর্মরোগসহ নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশুরা রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। পানি কমতে শুরু করায় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।