মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত পাঁচ বছরে (২০১৪ থেকে ২০১৮) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৮৭১টি। এ সময়ে প্রায় ৬শ নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। যৌতুকের জন্য খুন হয়েছেন ৯৭ জন নারী। এছাড়া গত জানুয়ারি মাসে এ জেলায় ১৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, যৌতুকের দাবি, পারিবারিক কলহ, জোরপূর্বক ধর্ষণ, পরকীয়া, বিয়ের প্রলোভন, ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, টাকার জন্য ও প্রেমঘটিত কারণে অপহরণ, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে এই দুই হাজার ৮৭১ মামলা হয়। জেলার বিভিন্ন থানায় সরাসরি এজাহার এবং আদালতের আদেশের ভিত্তিতে মামলাগুলো দায়ের হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ৪৪৩ এবং আদালতের আদেশে ১৪৭টিসহ মোট ৫৯০টি মামলা হয়েছে। এ সময়ে যৌতুকের জন্য স্বামী ও স্বজনদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে ৯৭ জন নারীকে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি থানায় ৫৫টি ও আদালতের আদেশে ৪২টি মামলা দায়ের হয়েছে। জেলা পুলিশের দেওয়া এই তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে এ জেলায় প্রতিদিন প্রায় এক দশমিক ছয়জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদিকে জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে এ জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় ১২৪টি ও আদালতের আদেশে ১৩২টি মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কুমিল্লা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের এ কঠোর বিধান থাকলেও অপরাধ যেন কিছুতেই থামছে না, যা উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল কুমিল্লা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, যারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন কেবলমাত্র সেসব ঘটনার তথ্যই পুলিশের কাছে রয়েছে। এর বাইরেও অনেক নির্যাতিতা নারী আছেন যারা পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে আইনের দ্বারস্থ হন না।
কুমিল্লার নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট ফাহমিদা জেবিন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, ২০১৪ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহায়তা সেলের মাধ্যমে দাম্পত্য বিরোধ মীমাংসাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।