নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের বিক্ষোভকালে ককটেলসহ ১৮ তরুণ আটক

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলার সময় ককটেলসহ ১৮ তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। 

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল  সাড়ে ৫টার দিকে জেলার কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ওটারহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণমাধ্যমকে পুলিশ সুপার  জানান, গতকাল কবিরহাট থানার বাটইয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়ারহাট বাজারে  সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারীরা ২০১৯ সালে ঘোষিত  ‘নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়ে মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেন। একই সময়ে ও একই জায়গায় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন শাহিন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। উভয়পক্ষ একই জায়গায় মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করায় সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সেখানে  পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, বিকাল  সাড়ে ৫টার দিকে খবর পেয়ে কবিরহাট থানার এসআই এনামুল হক দিপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভূঞারহাট বাজার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ওটারহাটে যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, স্থানীয়রা একটি মাইক্রোবাসসহ ১৮ তরুণকে ঘিরে রেখেছে। পরবর্তী সময়ে কবিরহাট থানা পুলিশ তরুণদের হেফাজতে নেয়। এসময় মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৬টি ককটেল, ৩টি লোহার পাতসহ ১৮ তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক তরুণদের  জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার। তিনি জানান, আটক তরুণদের বাড়ি সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ উপজেলায়। তাদের মধ্যে একরাম হোসেন মামুন (২৬) নামে একজন জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে সবাই কবিরহাট থানা এলাকার ভুঁইয়ারহাট বাজারে পরস্পরবিরোধী মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিয়ে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করতে অস্ত্র নিয়ে ভুঁইয়ারহাট বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায়  আটকদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, আটক তরুণর আজ  আদালতে সোপর্দ করা হবে। জব্দ করা বিস্ফোরকদ্রব্য ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

ইত্তেফাক/এনই