চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নতুন যাদবপুরে প্রবাসীর স্ত্রী জেসমিন ওরফে আয়না বেগমকে (৩৮) চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আবু তারেক জানান, প্রবাসী স্বামীর বাড়ি ফেরা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিক মামুন মন্ডলের সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় জেসমিন খাতুন ওরফে আয়না বেগমের। এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাগ্নে রাব্বিকে ব্যবহার করে শরবতের মধ্যে চেতনানশক ওষুধ মিশিয়ে আয়নাকে পান করায় মামুন। সেদিন রাতে আয়না বেগম জ্ঞান হারালে তার ঘরে ঢুকে ড্রেসিং টেবিলের ওপরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকাটে পরকীয়া প্রেমিক মামুন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুজ্জামান ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক লুৎফুল কবীরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রউফ বাদী হয়ে মামুন ও রাব্বী নামে দু’জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মূল আসামী মামুন (২৭) ও তার ভাগ্নে রাব্বী (১৬) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুজ্জামান জানান, হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মামুনের ১৬৪ ধারায় স্কীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হবে। এ মামলায় উপ-পরিদর্শক হাসানুজ্জামানকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার নতুন যাদবপুর গ্রামে জেসমিন ওরফে আয়না বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জেসমিন কুয়েত প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিলের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
ইত্তেফাক/এসজেড