চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে উইন্ডমিল এডভারটাইজিং লিমিটেডকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে দেশীয় সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড। বৃহস্পতিবার ইত্তেফাক অনলাইনকে এই লিগ্যাল নোটিশের পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ড্রিম৭১ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির।
তিনি বলেন, গত বছর জুলাই মাসে উইন্ডমিল এডভারটাইজিংয়ের সাথে আমাদের ড্রিম৭১ বাংলাদেশের সাথে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩টি সফটওয়্যার তৈরী করে দেয়ার একটি চুক্তি হয়। চুক্তির সময় ১২ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ৪ লাখ টাকা মোট ১৬ লাখ দিলেও পরবর্তী ২৪ লাখ টাকা দেওয়া টালবাহানা শুরু করে উইন্ডমিল। ড্রিম৭১ এর পক্ষ থেকে গত বছর অক্টোবরে ১২ লাখ টাকার ৩য় ইনভয়েস পাঠানো হলেও, বারবার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাওনা টাকা দেয়নি উইন্ডমিল।
উইন্ডমিলের সিইও সাব্বির আহমেদ তানিম বরাবার লিগ্যাল নোটিশটি পাঠিয়েছেন ড্রিম৭১ এর আইনজীবি ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। লিগ্যাল নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে পাওনা টাকা বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে উইন্ডমিলকে। সেটি না হলে বেসিসের মেডিয়েশন সেল অথবা উইন্ডমিলের কাছ থেকে বিকল্প কোনো মেডিয়েটরের নাম জানতে চাওয়া হয়েছে। মেডিয়েশনের মাধ্যমেও সমঝোতা না হলে চুক্তির ধারা অনুযায়ী মামলা করা হবে বলে আইনি নোটিশে জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে ড্রিম ৭১'র পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাওনা টাকার ব্যাপারে এই বছর মার্চ, জুন এবং জুলাই মাসে উইন্ডমিল এবং ড্রিম৭১ এর মধ্যে অন্তত ৩ দফা আলোচনা হয় । প্রতিবারই পাওনা টাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত টালবাহানা শুরু করে ঊইন্ডমিল । অবশেষে ২৪ আগস্টে একটি ইমেইলের মাধ্যমে চুক্তিটি আর এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় উইন্ডমিল। চুক্তি অনুযায়ী চুক্তি টার্মিনেশনের জন্যে ৭ দিনের লিখিত নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও চুক্তির কিছুই মানেনি উইন্ডমিল।
এসময় উইন্ডমিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময়মতো কাজ ডেলিভারি করা হয়নি। কিন্ত ড্রিম৭১ এর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী ডেলিভারীর তারিখ ৩১শে ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যেই সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্টো এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার রিকোয়ারমেন্ট সংগ্রহের জন্যে ড্রিম৭১ এর পক্ষ থেকে ইমেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপে নক করা হলেও তারা অন্য কাজে ব্যস্ত আছে বলে জানানো হয়েছে। দুই পক্ষের ইমেইল এবং হোয়াটসআপ কমিউনেকেশন থেকে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনকি প্রজেক্টের মাঝ পথেও অনেক বার রিকোয়ারমেন্ট পরিবতর্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ড্রিম৭১'র পক্ষ থেকে গত ৭ই নভেম্বর এবং ২৬শে ডিসেম্বরে পাঠানো দুইটি ইমেইল থেকে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ড্রিম৭১ এবং উইন্ডমিলের মধ্যে সর্বশেষ সমঝোতার চেষ্টা করা হয় গত ৭ জুলাই। সেদিন উইন্ডমিলের চাহিদামতো ইমেইল করে পাঠায় ড্রিম৭১। উইন্ডমিল তাদের পছন্দমতো ইমেইল পেয়েছে বলে তারা জানায়। এই বিষয়ে মোবাইল ফোনের কথোপকথনের একটি রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। কিন্ত পছন্দমত ইমেইল পাওয়ার পরও আবারো নতুন নতুন অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করতে থাকে উইন্ডমিল, ড্রিম৭১ সেটিতে রাজি না হলে সমঝোতা ভেস্তে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিসের সাবেক একজন সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাজ করিয়ে নিয়ে পাওনা টাকা না দেওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আর একজন বেসিস সদস্য হয়ে যখন আরেকজন বেসিস সদস্যের এমন টাকা না দেওয়ায়ার ঘটনা ঘটে, ব্যাপারটি দেশের সামগ্রিক আইটি ইন্ড্রাস্টির জন্যে খুবই অমঙ্গলজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমঝোতা না হলে আদালতের মাধ্যমের ব্যাপারটি সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
অভিযোগ ও বিষয়ে উইন্ডমিল এডভারটাইজিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাব্বির আহমেদ তানিম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, আমাদের চুক্তির মধ্যে উল্লেখিত সময়ানুযায়ী তারা আমাদের পণ্য সরবরাহ করেনি। এরপর আমরা তাদেরকে কয়েকদফা সময় বাড়িয়ে দেই, তাতেও তারা কাজ শেষ করতে পারে নাই। তারপর আমরা তাদের কাছে আমাদের দেওয়া অগ্রীম টাকা ফেরত চাই। তখন তারা টাকা ফেরত না দিয়ে উলটো বাকী পাওনা টাকা ফেরত চায়।
লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোটিশ পেয়েছি এবং আমরাও তাদের সাথে আইনিভাবে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ইত্তেফাক/আরকে