নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে পচে গেছে আমনের খেত

নাগেশ্বরীতে জমে থাকা বন্যার পানিতে পচে গেছে আমনখেত। বীজতলা অবশিষ্ট না থাকায় সেখানে নতুন করে চারা রোপণে দেখা দিয়েছে সংশয়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

এবারে বর্ষা পেরিয়ে শরতে দেখা দিয়েছে মাঝারি বন্যা। এতে তলিয়ে গেছে নদ-নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলীয় নিচু জমির ৫ হাজার ৫২৫ হেক্টর রোপা আমনখেত। পানি কমে বন্যার উন্নতি হলে ক্ষত নিয়ে জেগেছে সেগুলো। অধিকাংশই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে চারা লাগানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কিন্তু বীজতলাও নেই। দেখা দিয়েছে চারার সংকট। অনেকেই চরা কিনে এনে রোপণ করলেও কারো কারো সেই সংগতি নেই। কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারীটারী গ্রামের কৃষক লস্কর আলী জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে সব ধানগাছ পচে গেছে। সেখানে আর ধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পুনরায় রোপা লাগানোর সামর্থ্যও তার নেই। একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম ও নজরুল ইসলাম জানান, নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানো ব্যয়সাধ্য। তাছাড়া ধানের চারাও সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে না। বল্লভের খাস ইউনিয়নের মজিবর রহমান ও রমজান আলী জানান, এখনো তাদের জমি থেকে বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে যায়নি। ঐ জমিতে ধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। আবাদ না হলে পরবর্তী দিনগুলো পার করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, এবার উপজেলায় ২৪ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বন্যায় ৫ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমির রোপা আমন তলিয়েছে। খেত থেকে সম্পূর্ণ পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।