নির্লজ্জতা যেভাবে ধ্বংস ডেকে আনে

লজ্জাবোধ মানবতার ভূষণ ও বৈশিষ্ট্য। লাজলজ্জা না থাকলে মানুষ নির্লজ্জ পশুতে পরিণত হয়। মানুষ যখন এই লজ্জাবোধ হারিয়ে ফেলে তখন তার পশুত্ব ও মনুষ্যত্বের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যখন তোমার লজ্জা কমে যাবে, তখন তুমি যা খুশি তা-ই করতে পারবে।’ (বুখারি :৬১২০)।

মানুষ যখন তার লজ্জাকে হারিয়ে ফেলে তখন সে তার ইমানকেও হারিয়ে ফেলে। হাদিসে এসেছে, ‘যার লজ্জা নেই তার ইমান নেই।’ (বুখারি :৮)। আর যেই ব্যক্তির ইমান নেই, সেই ব্যক্তি জাহান্নামের পথের পথিক। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘লজ্জা ইমানের অঙ্গ, আর ইমানের স্থান জান্নাত। পক্ষান্তরে নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের অঙ্গ, দুশ্চরিত্রের স্থান জাহান্নাম। (তিরমিজি :২০০৯)। জাহান্নামে যাওয়ার জন্য শুধু ‘নির্লজ্জতা’ ও বেহায়াপনাই যথেষ্ট। এই নির্লজ্জতা থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই ইমান টিকিয়ে রাখতে হবে। আর ইমান টিকিয়ে রাখতে হলে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে হবে—‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি সাব্বিত কালবি আলা দিনিকা’—অর্থাত্, ‘হে মনের গতি পরিবর্তনকারী, আমার মনকে সত্য দিনের ওপর স্থিত করুন।’ আমাদের ইসলাম ধর্মেই নিহিত আছে শান্তি। প্রতিটি ধর্মের একটা চরিত্র আছে। আমাদের ইসলামের চরিত্র হলো লজ্জাশীলতা। (ইবনে মাজা :৪১৮১)

লজ্জাশীলতা যার মধ্যে যতটুকু থাকে, কোনো অন্যায় করতে সে ততটাই সংকোচ বোধ করে। ফলে সহজেই সে বেঁচে যায় বহু অন্যায় ও অসামাজিক কাজ থেকে। প্রিয় নবি (স)-এর কী অর্থপূর্ণ সরল বাণী—‘লজ্জাশীলতা কেবলই কল্যাণ নিয়ে আসে।’ (বুখারি ৬১১৭)। হজরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘নির্লজ্জতা মানুষকে ত্রুটিপূর্ণ করে। আর লাজুকতা তার শ্রী বৃদ্ধি করে।’ (তিরমিজি :১৯৭৪)।

হজরত আদম (আ) ও তার সঙ্গিনী হাওয়া (রা)-এর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, ‘অতঃপর যখন তারা সেই ফলের স্বাদ গ্রহণ করল, তাদের লজ্জাস্থান তাদের নিকট প্রকাশিত হয়ে পড়ল, ফলে তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে লাগল।’ (সুরা আরাফ :২২)। ইসলামি নৈতিকতার যে সৌধ, লজ্জা হলো তার মূল ভিত্তি। যখন তা হারিয়ে যায়, তখন সবই হারিয়ে যায়। এজন্যই রসুলুল্লাহ (স) বলেন, ‘প্রতিটি দীন বা জীবন ব্যবস্থার একটি চরিত্র রয়েছে। ইসলামের মূল চরিত্র হলো লজ্জাশীলতা।’ (ইবনে মাজা :৪১৮১)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের মানবচরিত্রের এ অমূল্য রক্ষা করার তাওফিক দিন।

lলেখক :সদস্য, বাংলাদেশ নবীন লেখক ফোরাম