ওয়াসার পানির দামের চেয়ে উত্পাদন খরচ বেশি —স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসা ভর্তুকি দিয়ে পানি বিক্রি করছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার প্রতি লিটার পানি উত্পাদনে খরচ পড়ে ২২-২৫ টাকা। আর তারা বিক্রি করছে ১৫ টাকায়। এভাবে ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা ওয়াসা আয়োজিত গন্ধবপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সারফেস ওয়াটারে গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে ৬৬ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড আর বাকি ৩৪ শতাংশ পানি দেওয়া হচ্ছে সারফেসের মাধ্যমে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য অন্তত ৭০ শতাংশ সারফেস এবং ৩০ শতাংশ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। এসময় মন্ত্রী ঢাকা ওয়াসাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান সব প্রকল্পের কাজ যথা সময়ে শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, সারা দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য ‘ন্যাশনাল ওয়াটার গ্রিড লাইন’ চালুর কাজ করছে সরকার। তাজুল ইসলাম জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে পানির স্বল্পতা রয়েছে। কারণ সেখানে লবণাক্ত পানিসহ অসংখ্য সমস্যা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির স্বল্পতা দেখা যায়। সেজন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য সারা দেশে ‘ন্যাশনাল ওয়াটার গ্রিড লাইন’ তৈরির জন্য চেষ্টা করছি, এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান ও চায়না জিও ইঞ্জিনিয়ারিং কো-অপারেশন কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওইন ইয়ং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ প্রকল্পের আওতায় বারিধারা ক্রসিং হতে রামপুরা ও বারিধারা হতে এয়ারপোর্ট রোড, উত্তরা, গুলশান, বনানী ও কচুক্ষেত এলাকায় পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা হবে। এই প্যাকেজে ব্যয় হবে ৫১৮ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকসহ ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।