চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নতুন যাদবপুরে প্রবাসীর স্ত্রী জেসমিন ওরফে আয়না বেগমকে (৩৮) চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক।
প্রবাসী স্বামীর বাড়ি ফেরা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিক মামুন মণ্ডলের সঙ্গে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় জেসমিন খাতুন ওরফে আয়না বেগমের। এরই জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাগনে রাব্বিকে ব্যবহার করে শরবতের মধ্যে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে আয়নাকে পান করায় মামুন। আয়না বেগম জ্ঞান হারালে রাতে তার ঘরে ঢুকে ড্রেসিং টেবিলের ওপরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে গৃহবধূর গলা কাটে মামুন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদশেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবু তারেক।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুজ্জামান ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক লুত্ফুল কবীরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রউফ বাদী হয়ে মামুন ও রাব্বী নামে দুই জনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মূল আসামি মামুন ( ২৭) ও তার ভাগনে রাব্বীকে (১৬) পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
নিহত জেসমিনের বাড়ি থেকে একটি ধারালো ছুরি, চেতনানাশক ট্যাবলেটের পাঁচটি খালি স্ট্রিপ, পাঁচটি গ্লাস, চারটি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব এবং আসামি মামুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রক্তাক্ত লুঙ্গি ও রক্তমাখা স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুজ্জামান জানান, মূল আসামি মামুনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হবে। উপ-পরিদর্শক হাসানুজ্জামানকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে।