ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ধামাকা’ প্রতারণা করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮০৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ ও গ্রাহকদের টাকা থেকে ১১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ধামাকার মূল প্রতিষ্ঠান ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিষয়টি তদন্ত করে মানি লন্ডারিং আইনে এই মামলা দায়ের করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, মামলায় আসামিরা হলেন: ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিনের স্ত্রী সাইদা রোকসানা খানম, জসীম উদ্দিনের তিন ছেলে একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাশফির রেদোয়ান চিশতী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিমউদ্দীন আসিফ, পরিচালক মাশফিক রেদোয়ান চিশতী ও পরিচালক সাফওয়ান আহমেদ।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জসীম উদ্দিন ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড চালানোর জন্য ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে ডেভেলপমেন্ট সফটওয়্যার, টেলিকম সিস্টেমস, স্মার্টফোন, আইপি ফোন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, কমিউনিকেশন আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার নামে নিবন্ধন নেন। গত বছর অক্টোবর থেকে অর্থ আত্মসাত্ করার জন্য ‘ধামাকা শপিং’ নামে অবৈধভাবে ই-কমার্স ব্যবসা চালু করেন তিনি। ধামাকা পরিচালনাকারীরা অবৈধভাবে ধামাকা শপিং ই-কমার্স সাইট/অ্যাপসের মাধ্যমে কথিত ব্যবসা পরিচালনা করে পাঁচ লক্ষাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অস্বাভাবিক কম মূল্যে মোটরসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখায়। পরে গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৮০৩ কোটি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৬৩ টাকা গ্রহণ করে ধামাকা। প্রথম দিকে অল্পসংখ্যক গ্রাহককে কিছু পণ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক গ্রাহক আকৃষ্ট করে ধামাকা। পরে তাদের পণ্য সরবরাহ না করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে। অন্যদিকে ৬০০ সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনার নামে ২০০ কোটি টাকার পণ্য গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করেও প্রতারণা করে ধামাকা।