মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
গত বুধবারের পর
এই তিনটি হচ্ছে, চৌম্বক বিচ্যুতি, চৌম্বক বিণতি আর ভূচৌম্বক ক্ষেত্রের অনুভূমিক উপাংশ।
এগুলো আবার কী? অণু বলল।
এগুলো বুঝতে গেলে কিছু বিষয় জানতে হবে। বিন্দু চুম্বকটা দে দেখি।
বিন্দু চুম্বকটা এগিয়ে দিলো। নীলকান্তবাবু এক টুকরো কাগজ নিয়ে চুম্বকটার ওপর এর দৈর্ঘ্যবরাবর সোজা করে ধরলেন। বললেন চুম্বকের উত্তর-দক্ষিণ মেরু বরাবর একটা উলম্ব তল যদি কল্পনা করি, তাহলে একে আমরা বলি চৌম্বক মধ্যতল। ঠিক একইভাবে পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ মেরু বরাবর একটা তল কল্পনা করা হলে একে বলা হয় ভৌগলিক মধ্যতল। কোনও স্থানে একটা চুম্বককে ঝুলিয়ে রাখলে এর চৌম্বক মধ্যতল ঠিক ভৌগলিক মধ্যতলের সাথে পুরাপুরি মিলে যায় না। কিছুটা কোণ সৃষ্টি করে রাখে। এই কোণকে বলা হয় বিচ্যুতিকোণ। অন্য কথায় পৃথিবীর কোনও স্থানে মুক্তভাবে স্থাপিত চুম্বক শলাকা ভৌগলিক মধ্যতল থেকে যে কোণে বিচ্যুত হয়, তাকেই ঐ স্থানের বিচ্যুতি বলে। একে থিটা দিয়ে লিখা হয়। E বা W।
কোনও স্থানের বিচ্যুতি কত হতে পারে? বললেন রেখা।
বিভিন্ন মানের হতে পারে। যেমন ধর, ঢাকার বিচ্যুতি 0.5E, কলকাতার 0.73E, দিল্লীর বিচ্যুতি ২.০৩৩ E, লন্ডনের বিচ্যুতি 1W.
কিন্তু ঢাকার বিচ্যুতি ০.৫ E মানে কী, আমরা কী বোঝলাম? বলল আকাশ।
নীলকান্তবাবু বললেন, ঢাকার বিচ্যুতি 0.5E বলতে বোঝা গেল ঢাকায় একখণ্ড দণ্ডচুম্বককে সূতা দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে রাখলে এর উত্তর মেরু ঠিক পৃথিবীর উত্তরদিকে না থেকে 0.5 পূর্বদিকে থাকবে।
আকাশ মাথা নাড়ল, বুঝেছে। বলল, তাহলে লন্ডনের বিচ্যুতি 1W মানে হচ্ছে, লন্ডনে চুম্বকশলাকা ঝুলিয়ে রাখলে এর উত্তরমেরু ঠিক পৃথিবীর উত্তরদিকে না থেকে 1পশ্চিমদিকে থাকে।
ঠিক বলেছিস, নীলকান্তবাবু খুশি হলেন আকাশের ব্যাখ্যা শুনে।
চন্দ্রা বলল, কিন্তু মামা, খালি উত্তরমেরুর কেন হিসাব করা হয়, দক্ষিণমেরুর বললে হয় না?
নীলকান্তবাবু বললেন, চুম্বকের ক্ষেত্রে উত্তরমেরুটাকেই স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়েছে।
এইজন্য উত্তরমেরুই বলতে হবে। পূর্বদিককে + এবং পশ্চিম দিককে -ও ধরা হয়। যেমন 0.5oE কে + 0.5o এবং 1oW কে-1oI বলা হয়ে থাকে।
এখন বিণতি কাকে বলে বলছি। একটা চুম্বক শলাকাকে যদি পৃথিবীর কোনও স্থানে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়, তাহলে এটি যেমন ঠিক উত্তর দক্ষিণ বরাবর না থেকে একটু কোণ সৃষ্টি করে, তেমনি একদম সমান্তরালভাবে না থেকে এর যে কোনও এক মাথা উপরে বা নিচের দিকে থাকে। আনুভূমিকের সাথে যত ডিগ্রি কোণ করে থাকে, তাকেই ঐ স্থানের বিণতি বলা হয়।