সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি

ইঞ্জিনিয়ার পলাশ মজুমদার

শিক্ষক

চাঁদপুর জনতা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা

 

উদ্দীপক:তথ্য প্রযুক্তি বিজ্ঞানের জয়যাত্রাকে ব্যাহত করেনি বরং এগিয়ে দিয়েছে। স্পর্শ মজুমদারের কলেজের আইসিটি শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক এখন আর ক্লাসে হাজিরা খাতা নিয়ে আসেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা কলেজে প্রবেশের সাথে সাথে একটি যন্ত্রের বাটনে প্রেস করা মাত্রই হয়ে যায়। এই বিষয়টিসহ শিক্ষার্থীদের শরীরবৃত্তীয়, আচরণগত বিষয়, জৈব তথ্যে DNA, জিন এমিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিডসহ অন্যান্য উপাদানগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখে তা আইসিটি শিক্ষক জনাব আমিনুল ইসলাম স্যার বিশদভাবে তুলে ধরেন।

ক. বায়োমেট্রিক্স (Biometrics) কী?

খ. মানবদেহের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি প্রকারভেদ উল্লেখ করো।

গ. উদ্দীপকের আলোকে স্পর্শ মজুমদারের কলেজে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির কীভাবে কাজ করে বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে আমিনুল ইসলাম স্যারের বক্তব্য অনুযায়ী বায়োইনফরমেটিক্স-এর কী কী কাজ ও ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে তা

উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করো।

(গ) নং প্রশ্নের উত্তর:

উদ্দীপকের আলোকে স্পর্শ মজুমদারের কলেজে বায়োমেট্রিক্স সিস্টেমের কার্যক্রমটি দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। পর্যায় দুটি হলো:

১. শনাক্তকরণ (Identification) ২. সত্যতা যাচাই (Verification)

১. শনাক্তকরণ (Identification): বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে ব্যক্তির অদ্বিতীয় কোনো বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তা ঐ ব্যক্তির নামের বিপরীতে সিস্টেমের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে টোকেন নির্ভরশনাক্তকরণ পদ্ধতি যেমন: লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মসনদ ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও কম্পিউটার সিস্টেমে ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বর ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার পদ্ধতিতে নিখুঁত নিরাপত্তার জন্য বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে মানুষের বায়োলজিক্যাল ডেটা কম্পিউটার ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কর্পোরেট অফিস, শপিং মল ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের দরজায় ফিঙ্গার ও রেটিনা স্ক্যান প্রিন্ট সেন্সর লাগানো থাকে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে কারা প্রবেশ করতে পারবে আগে থেকেই তাদের সকল উপাদানগুলো কম্পিউটারে বিশেষ নিরাপত্তা সফটওয়্যারের ডেটাবেজে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। ফলে দরজার সমানে দাঁড়ালেই দরজা সাথে সাথে খুলে যায়। এজন্য কম্পিউটার সিস্টেমে সেন্সর, এক্সট্রাকটর, টেমপ্লেট জেনারেটর, ম্যাচার ও বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

২. সত্যতা যাচাই : এ পর্যায়ে পূর্ব থেকেই কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে সংরক্ষিত কোনো মানুষের অদ্বিতীয় এক বা একাধিক বায়োমেট্রিক্স বৈশিষ্ট্যের সাথে পরীক্ষাধীন ব্যক্তির বর্তমান বায়োমেট্রিক্স ডেটার তুলনা করে ঐ ব্যক্তির সত্যতা নির্ধারণ করা হয়। যেমন:ফিঙ্গার প্রিন্ট বা রেটিনা শনাক্তকরণ পদ্ধতির করা বলা হয়। সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ও রেটিনার ইউনিক ভিন্নতা দিয়েছেন। মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা রেটিনা ইউনিক অর্থাত্ একজন মানুষের আঙ্গুলের ছাপ বা রেটিনা অন্যজনের সাথে মিলবে না। ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার বা চোখের রেটিনা রিডার বায়োমেট্রিক্স সিস্টেমটি বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতি। এতে আগে থেকেই মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ও রেটিনা ক্যামেরার মাধ্যমে স্ক্যান করে মেশিনে ধারণ করে রাখা হয়। যার মাধ্যমে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী স্ক্যানকৃত ছবির সত্যতা যাচাই করা হয়।

               

                (ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর আগামীকাল